28 C
Dhaka
রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের স্বরূপ সন্ধান

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার  একাধিক দিবস অাছে। শেখ মুজিবের যেমন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস অাছে। শেখ হাসিনারও অাছে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। শেখ মুজিবের কারা মুক্তি দিবস অাছে কি না জানিনা। তবে শেখ হাসিনার অাছে। শেখ হাসিনার কারাবন্ধি দিবসও অাছে। যেটা অাজ পালিত হলো।দেশী- বিদেশী চক্রান্তকারীতো ছিলোই,তার সাথে যোগ হয়েছিলো বিএনপির কিছু অতি উচ্চাভিলাসী নেতারা। অার তাদের সম্মিলিত যোগফলের বর্হিপ্রকাশ ১/১১ নামের জরুরী সরকার। সেই সরকার অানার জন্যে তৎকালীন বিরোধী দল অনেক কসরত করেছিলো। খেলেছিলো নেপথ্যে অনেক খেলা। অার অামজনতা দেখেছিলো.. পল্টনে প্রকাশ্যে লগি বৈঠার তান্ডব।  ফলশ্রুতিতে এক সুনসান রাত্রিরে প্রেসিডেন্ট ইয়াজ উদ্দীনকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা থেকে বাধ্য করেছিলেন সেই সময়ের সেনা প্রধানসহ  উর্দিপরা অারো কতক উচ্চভিলাসি জেনারেল। দ্বিদলীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনে খাবি খাওয়া দেশের খেটে খাওয়া মানুষ,রাতের অাধারে ছিনতাই হয়ে যাওয়া দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের হিতাকাংখি বলে দাবি তরা নতুন নটবরদের পেয়ে তাই তারা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলো। সেই সময়ে বর্তমান শাসক দলের শীর্ষ নেতারা এই অবৈধ পরিবর্তনকে উচ্ছসিত প্রশংসা করেছিলেন, এবং এই পরিবর্তনকে তাদের অান্দোলনের ফসল বলেও অভিহিত করেছিলেন। অাওয়ামী লীগ দলটি বরাবরই  অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীকে কেন জানি পছন্দ করে। এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। যেমন এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর, এরশাদকে স্বাগত জানিয়ে  শেখ মনি ও শেখ সেলিমের  পত্রিকা অধূনালুপত বাংলার বানী সম্পাদকীয় লিখেছিল। অার সেই সময়ের পনের দলীয় জোট নেতা শেখ হাসিনা,বিবিসির প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন অাই অ্যাম নট অান হ্যাপি। বলছিলাম এক এগারো নিয়ে,  অাওয়ামী লীগ প্রশংসা করলেও পরে শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলে দলটি রাতারাতি নব্বই ডিগ্রি ঘুরে যায়। কিন্তু খেলা তখনো বাকি ছিলো। একপর্যায়ে জামিনে মুক্তি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে চলে যান।এই জামিন নিয়েও নানা কাহিনি অাছে। যখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা একে একে জরুরী সরকারের তল্পিবাহক হয়ে পড়ছিলেন।  তখন কোনো রাজনীতিবিদের জামিন হচ্ছিলোনা। সেই অসম্ভব  সময়া  সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অাইনজীবী  ব্যারিষ্টার রফিক উল হক হাসিনার জামিনের জন্য দাঁড়ান। যেদিন তিনি শেখ হাসিনার বেল পিটিশন মুভ করবেন,তার অাগের দিন রাতে অামি কাকতালীয়ভাবে তার নয়াপল্টনের বাসায় হাজির হই। নানা কথা বলার পর তিনি অামাকে বললেন, কাল অামার একটা পরীক্ষা অাছে  বিচারপতি  শাহ অাবু নাঈমের কোর্টে! কার জামিন, সেটা তিনি অামাকে বললেননা! রফিক উল হকের সাথে অামার তখন বেশ খানিকটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক।  তাকে নিয়ে অামি এনটিভিতে রফিক ঊল হকের চার যুগ শিরোনামে প্রোগ্রাম করেছি। তার একমাত্র ছেলে ফাহিমুল হক অামার বন্ধুজন। তার জুনিয়র এহসান ভাইসহ অারো অনেকের সাথে অামার সম্পর্ক খুবই নিবীড়। যাইহোক পরদিন সকালে একটু দেরী করে কোর্টে গেছি,হাইকোর্টের গেটে পৌছতেই  দেখি অ্যানেক্স ভবনের সামনে লোকে লোকারন্য!  অামার অফিসের গাড়ি থেকে নামতেই,রফিক স্যারের ড্রাইভার বললেন,অাজ স্যার হাসিনার জামিন শুনানী করছেন। দ্রুত গেলাম কোর্টে। বিচারপতি শহ অাবু নাইম  অামার পুর্ব পরিচিত। তার ছেলে বক্তিয়ার অামার বন্ধুজন। ওদের ফার্মেগেটের বাসায় অামি বহুদিন রাত কাটিয়েছি। অার সবচেয়ো বড় কথা হচ্ছে,  শাহ অাবু নাইমের বড় ভাই হচ্ছেন, প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ। যিনি ছিলেন, সেই জরুরি সময়ে বিএনপির কান্ডারী। যখন একে একে সবাইকে কিনে নিচ্ছে জরুরী  সরবার। বিচারপতি নাইম অনেক বিতর্ক,সেনা শাসকদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে জামিন দিলেন শেখ হাসিনাকে। এবং সেটাই ছিলো রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে অানিতো দুর্নীতি মামলার প্রথম জামিন। যেন অাইসবার্গ ভাঙলো।সেদিন হাজারো মানুষের ভীড়ের মধ্যে রফিক স্যারের সাথে কোনো কথা বলার ফুরসত পেলামনা। রাতে গিয়ে রফিক উল হক স্যারকে স্যালুট জানালাম। বললাম, এবার তাহলে? তাহলে কি? তিনি প্রশ্ন করলেন.. অামি বললাম ম্যাডাম! তিনি মুচকি হাসলেন! দুষ্টুমি করে বললেন,শয়তান!  ওই গোলাপির কথা তোকে বলতে হবেনা! 
অথচ সেই শা অাবু নাইম মোমিমুর রহমানকে, পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়েই তাকে উপেক্ষা করে তার জুনিয়রকে প্রধান বিচারপতি কর্ হলে তিনি যুগপথ রাগে অভিমানে  সুপ্রিমকোর্ট ছেড়ে যান।

দুই।

ওয়ান ইলেভেন যে দেশের জন্য একটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের ফসল,সেটা অামি জেনেছি দুটো বই পড়ে। হয়তো অামাদের দেশের রাজনীতিকদের কিছু দোষ ছিলো। কিন্তু সেটাকে পুজি করে জাতিসংঘের সেই সময়ের অাবাসিক প্রতিনিধি রেনেটার ইউএন মিশনে শান্তিরক্ষি পাঠানো নিয়ে সেনাপ্রধানের অফিসে জেরক্স কপি পাঠানো সবই ছিলো একটি দীর্ঘ মেয়াদী চক্রান্তের ফসল।।  লেখক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ এর জরুরী সরকারের  সময়ের বই  এক এগারো থেকে জেনেছি, ২০০৭ সালের জরুরী সরকার কেন,কাদের প্রয়োজন ছিলো। তিনি তার বইতে সাবেক সেনা প্রধান নুরুদ্দীন খানের কথা বলেছেন।  কুটনীতিকদের একটা অনুষ্ঠানে নুরুদ্দীন খান বলছেন, এই মুহুর্তে হুবহু মনে পড়ছেনা। তবে তার সারমর্ম হচ্ছে তিনি বলছেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে শেখ হাসিনা এবং ,বেগম জিয়াকে বাদ দিয়ে হলেও তার কোনো অাপত্তি থাকবেনা জেনারেল নুরুদ্দীন খানেরর বক্তব্য বিশ্লেষন করে অামরা বলতে পারি,ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবরা কত ফ্রন্টে খেলেছেন। অামি বলতে পারি প্রনব মুখার্জির সেই বইয়ের কথা। বইটির নাম এই মুহুূতে মনে নেই। যদিও বইটি অামি পড়েছি। বোধকরি অামার সংগ্রহেও অাছে। শেখ হাসিনার সাথে কথোপকথন।  তিনি বলছেন, তুমি সব কিছু মেনে নাও। মঈনকে অামি বোঝাবো। তুমি যাতে নেক্সটে ক্ষমতা পাও,সে বিষয়ে মঈনকে অামি বলবো।  কিন্ত সে চায়,নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।  সেটা সে পাবে অামি তাকে গ্যারান্টি  দিয়েছি।


তিন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে  দুর্নীতির  মামলা ছিলো ১৫ টি। তার পাঁচটি করেছিলো জরুরী সরকার।  প্রাইম ব্যাংকের অাজম জে চৌধুরী। একটা চাঁদাবাজির মামলা করেছিলো। বেচারা,এখন কই জানিনা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমান তিনি তার বাংলাদেশের দিনপন্ঞ্জি বইতে দলের এথনকার সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কোট করে লিখেছেন,  বংঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাব তিনি ডিল করেন।এবার অাসি মামলা গুলোতে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধূরী মানিক,  অাওয়ামী লীগের অাগের সময়ে হাইকোর্টের বিচারপতি  ছিলেন। মাঝখানে বিএনপি সরকার তাকে কনফার্ম না করায়, নিজাম উদ্দীন নাসিম অনেকের মত তিমি  অাইনজীবী হয়ে যান। এরপর সুপ্রিমকোর্ট চত্ত্বর মুখর করে তোলেন, বিএনপি সরকারের সমালোচনায়। পরে যখন অাওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অাসে, অনুকূল সময়ে তারা কোর্টে  বিষয়টি চ্যালেঞ্জ  করে, সিনিয়রটিসহ বিচারপতির পদ ফিরে পান।

চার
শামসুদ্দীন চৌধুরী হচ্ছেন,সেই ব্যক্তি,যিনি ব্রিটেনে অাইনজীবী ছিলেন,যাকে সোজা বাংণায় বণে কুইন্স কাউন্সিলর। শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের সরকারের সময় হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে বিএনপি জোট সরকার তাকে স্থায়ী করেনি। সেই শামসুদ্দীন চৌধুরী বিএনপির পুরোটা সময়,অাইন পেশায় ফিরে ঢাকা লন্ডন করে বেড়ান। পরে ফের অাওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অাপিল বিভাগের রায়ে ভূতাপেক্ষা সিনিয়রিটিসহ ফের হাইকোর্টের জজিয়তি ফেরত পান।এই শামসুদ্দীন চৌধুরী। অাপিলে গিয়ে শেখ হাসিনার সব মামলা কোয়াশ( খারিজ করেন) অার প্রত্যেকটায় তিনি লেখেন যথেষ্ঠ  তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি,এসব রাজনৈতিক উদ্দ্যেশপ্রণোদিত। তিনি একেএকে পনেরটি মামলা খারিজ করে দেন। 
বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরীর সাথে অামার প্রথম পরিচয় হয়  ছিলো।এখনো অাছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার  অাসামী বজলুল হকের অাইনজীবী ছিলেন ব্যারিষ্টার অাব্দুল্লাহ অাল মামুন। তিনি মনে হয় পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।  মামুন ভাইকে  সবাই  তার গায়ের রং কালো বলে কালো মামুন বলে ডাকে। (অামরাও কি বর্ন বৈষম্যের উর্ধ্বে!)সে যাইহোক! বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরীর  কত খানি জ্যাত্মাভিমান ছিলো, সেটা বোঝানোর জন্য পুলিশের একজন অাইজিকে পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত করেছিলেনতার অপরাধ কি ছিলো জানেন,তার অপরাধ ছিলো, একজন পুলিশ সার্জেন্ট  রাস্তায় তাকে সালাম দেয়নি.. অাওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অার কোন দিকটা অাপনাকে উন্মোচিত করতে হবে!

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

8 + 18 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা