30 C
Dhaka
শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১

ইউরোপের লীগ, কোপা, ইউরো এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের লীগ মওসুম শুরু হতে এখনো মাস খানেক বাকি। এখন চলছে দলবদল। সেটা শেষ হতেও অনেক বাকী। তবে এখন পর্যন্ত যা অবস্থা,তাতে দাও মেরেছে বলতে হবে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনি ক্লাব পিএসজি। গত সপ্তাহে ইউরোপের নিজের পজিশনে সেরা তিনজনকে দলে টেনেছে। এর মধ্যে মরোক্কান অাশরাফ হাকিমির কথা অালাদাভাবে বলতেই হবে। রোনালডোর জুভেন্টাসকে টেক্কা দিয়ে এ ইন্টার মিলান যে এবার শিরোপা জিতলো তাতে লুকাকুর পাশাপাশি অনেক বড় অবদান এই হাকিমির। পিএসজি মাদ্রিদ থেকে অানলো স্পেন ও রিয়ালের অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে। এই মুহুর্তে বিশ্বের তিনজন স্টপারের কথা মনে করলে রামোসের নাম বলতেই হবে। রিয়াল কেন তাকে ছাড়লো, মাথায় অাসেনা। রামোস শুধু একজন স্টপারই নয়,দলের প্রয়োজনে হেডে গোল করতেও সমান পারদর্শী। রিয়ালের হয়ে ডিফেন্ডার হিসেবে হেডে সবচেয়ে বেশী গোলের মালিক সম্ভবত রামোস। অার অধিনায়কের অার্মড ব্যান্ড পরলে তিনি হয়ে যান যেন অন্য মানুষ। দলে তার ডেডিকেশন থাকে সবার উপরে। যদিও তার বদনাম অাছে একটু। ডিফেন্ডার হিসোবে লা লিগাতে তার চেয়ে বেশী কার্ড বোধ করি অার কেউ খায়নি। তবু রামোস,রামোসই। তার বিকল্প রিয়াল শিগগীরই পাবে বলে মনে পড়েনা। থিয়াগো সিলভাকে ছেড়ে দিয়ে, পিএসজির ক্রিড়া পরিচালক লিয়ানার্দো অবশ্যই মনে মনে অাফসোস করেছিলেন, তিনি যে বড় ভুল করে ফেলেছেন,সেটা নিজের কাছে নিজে স্বীকারও হয়তো করেছেন অার তারই খেসারতে রামোসকে দলে ভিড়িয়ে সে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন তিনি। বলছিলাম পিএসজির কথা, তারা গত সপ্তাহে ফ্রি ট্রান্সফারে দলে ভিড়িয়েছে ইটালির ইউরো জয়ের নায়ক এবং এসি মিলানের গোল রক্ষক দোলারুম্মাকে। যদিও অামি মনে করিনা,কেইলর নাভাসের চেয়ে সে ভালো। নাভাসকে ছেড়ে জিদান যে ভুল করেছিলো,তার খেসারত মাদ্রিদকে বহুদিন দিতে হয়েছে। যাইহোক পিএসজিতে এ মৌসুমে এসেছে নেদারল্যান্ডেরর অধিনায়ক ভাইনল্যান্ডাম। লিভারপুল তাকে চাইলে রাখতে পারতো,কিন্তু ক্লপের পরিকল্পনার সাথে সে হয়তো যাচ্ছিলোনা বোধ করি। তবে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন লীগ জয়ী করতে তার ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা। অামার চোখে গেঁথে অাছে নক অাউট স্টেজে বার্সার বিরুদ্ধে তার অতিমানবিয় পারফর্মেন্স!ভাইনল্যান্ডামারের যাবার কথা ছিলো বার্সায়। ও চাইছিলো জাতীয় দলের সাবেক কোচ কোমানের অধিনে খেলতে.. কিন্তু বার্সার দোদুল্যমনতায় সুযোগটা কব্জা করলো পিএসজি।এর বাইরে পচেত্তিনোর হাতে তো অাগে থেকে মারনাস্ত্র ছিলো। যাই যাই করে এখনো এমবাপ্পে অাছে। অাছে নেইমার, ইকার্দি,ডি মারিয়া,ভিরাত্তি,কিম্বাপ্পে, মারকুইনোরা… চ্যাম্পিয়ন লীগ কখনো জেতা হয়নি প্যারিসের এই ক্লাবটির। গতবার তীরে এসে বায়ার্নের কাছে হেরে তরী ডুবেছিলো। ফলশ্রুতিতে বিদায় নিতে হয়েছিলো টমাস টুখেলকে। অথচ সেই টমাসই এবার ল্যাম্পার্ডেরর হাত থেকে চেলসির দায়িত্ব নিয়ে চেলসিকে জেতালেন চ্যাম্পিয়ন লীগ। তবে পিএসজির মালিক মধ্যপ্রাচ্যের ধন কুবের নাসের অাল খেলাইফির ধ্যানজ্ঞান হচ্ছে পিএসজির ঘরে চ্যাম্পিয়ন লীগ ট্রফি দেখা। এবার যে টিম গড়েছে ফরাসি ক্লাবটি,তাতে সেই অারাধ্য ট্রফিটা যদি প্যারিসের ক্লাবটি যদি পেয়ে যায় তবে মোটেও অবাক হবোনা। অামি লিগ ওয়ানে পিএসজির খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে অাছি।

একমাস বুধ হয়েছিলো ফুটবলপ্রেমিরা। দুদুটো বড়ো ফুটবল টুর্নামেন্ট তাদের চোখের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো। দুটো টুর্নামেন্টই একদিনে শেষ হলো। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল,বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে, ফুটবলের পরাশক্তি জার্মানি, ডি ব্রুইন,হ্যাজার্ড,লুকাকুদের বেলজিয়ামদের টেক্কা দিয়ে শীরোপা ঘরে নিলো মানচিনির ইটালি। অথচ এই ইটালি গত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি। ইংলিশরা ফুটবল নিয়ে গরব করে, তাই ৬৬’র পর অার কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বড় কোনো ফাইনাল খেলতে না পারার অাক্ষেপ ইংল্যান্ডের এবার ঘুচেছে,কিন্তু মহা অারাধ্য ট্রফিটা কিন্তু তারা পায়নি। গ্যারেট সাউথ গেটের শীষ্যদের ট্রাইব্রেকে হেরে ইউরোর রানার অাপ হয়ে শেষ পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। তবে দু:খ লাগছে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের জন্য বেচারা! টটেনহ্যাম হটস্পার হয়েও কিছুই পেলেননা, পেলেননা অধিনায়কের অার্মব্যান্ড পরে দেশের জন্য বড় কোনো ট্রফি এনে দিতে। গত বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে ক্রোয়াটদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো,এবার ইউরোতে অাশা জাগিয়েও ইটালির কাছে হেরে অাবারো স্বপ্নভঙ্গ! সবাই মেসি কিছু পেলোনা বলে অাহাজারী করে.. মেসি ভক্তরা মেসির জন্য এলিজি লিখতে দিস্তার পর দিস্তা কাগজের অপচয় করে,অথচ কেনের জন্য কারো কোনো সমবেদনার এক লাইনও লিখতে দেখিনা। মেসি এবার পেরেছে অান্ত মহাদেশীয় একটি ট্রফি উচিয়ে ধরতে…তার অাক্ষেপ যেমন ঘুচেছে,তেমনি দীর্ঘসময় ধরে কোনো ট্রফি না পাওয়া অার্জেন্টাইন এবং মেসি ভক্তদের কিছুটা হলেও তৃপ্তি দিয়েছে এই ট্রফি। তবে এটা হচ্ছে দুধের সাধ ঘোলে মেটানো। বিশ্বকাপ ট্রফি কোথায় অার কোপা অামেরিকা ট্রফি কোথায়! অামি মনে করি কোপা অামেরিকার ট্রফি উচিয়ে ধরা মেসির হাতের চেয়ে অার্জেন্টাইনরা বেশী মনে রাখবে ৮৬তে বিশ্বকাপ ট্রফি উচিয়ে ধরা ম্যারাডোনার হাতকে।সত্যিকথা হচ্ছে, ফাইনালে ট্রফি জিততে হলে খেলার চেয়ে বড় দরকার ভাগ্য, এবার ভাগ্য দেবতা মেসির দিকেই ছিলো। না হলো বল পজিশন,পাস,ড্রিবলিং গোলে শট। কোনোটাইতেই ফাইনালে অার্জেন্টিনা ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে ছিলোনা। মুফতে পাওয়া গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। তাই বলছিলাম। মেসির সাথে ছিলো লাক। না হলে কোপার ফাইনালে মেসি ঠিক মেসিসুলভ ছিলেননা। বড় ম্যাচের, ফাইনালের মত ম্যাচের চাপ মেসি কখনো নিতে পারেননা,একাধিকবার দেখা গেছে,কোপার ফাইনালেও সেটা অাবার দেখলাম। তবু ক্লাব ফুটবলের অন্যন্য কীর্তির অধিকারী মেসি দেশের হয়ে কিছুই জিততে পারেনি। এই বদনামটাতো শেষ পর্যন্ত ঘুচলো।তবে ইউরো এবং কোপার খেলা দেখে একটা উপসংহারে অামি এসেছি। ল্যাট্টিনের এই ঘুমপাড়ানিয়া ফুটবল থেকে ওরা যতদিন বের হতে না পারবে,ততদিন ওদের শীরোপার স্বপ্ন স্বপনই থেকে যাবে। ইউরোপের গতিময় ফুটবলের কাছে ল্যাট্টিন ফুটবলপ্রেমী কারো মনেই রেখাপাত করবেনা। এটা নেইমার,মেসিরা যত দ্রুত উপলব্দি করবে,ততই তাদের জন্য মঙ্গল। যাইহোক… অাপেক্ষায় অাছি ইউরোপের লীগ শুরুর…!

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one × 3 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা