28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

ইসরায়েলের ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া প্রসঙ্গে

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে  ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। এটা একটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। বর্তমান অনির্বাচিত সরকার এমন একটা স্পর্শকাতর একই সাথে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার অাগে কোনো ধরনের পুর্বাপর চিন্তা করেনি। করেনি বললে ভুল হবে, করার প্রয়োজনিয়তা টুকুও গায়ে মাখেনি। অথচ এমন সময়ে শতকরা অাশিভাগ মুসলমান রাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিলো,যখন দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল তার গডফাদার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতক্ষ্য মদদে ফিলিস্তিনে বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছিলো। তাহলে এর অর্থ কি? অামাদের পররাষ্ট্রনীতিতে কি পরিবর্তন ঘটেছে।নিশ্চই ঘটেছে,না হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রি কেন, এমন বাগাড়ম্বর করে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদুতের বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে বললেন,তার বক্তব্য অাপ্রাসঙ্গিক। অামরা অামাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী চলবো। তার মানে কি অামাদের পররাষ্ট্রনীতিতে শেখ হাসিনা সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

অামি অামার জন্মের পর থেকে শুনে অাসছি,ইসরাইল মুসলমানদের জন্য একটি নিষিদ্ধ দেশ। ও দেশের সাথে অামাদের কোনো সম্পর্ক নেই।অামাদের পাসপোর্টে বড় বড় হরফে লেখা অাছে পৃথিবীর সব দেশে অাপনি ভ্রমণ করতে পারবেন,কেবল এই ইহুদি দেশটা ছাড়া। কিন্তু পাসপোর্টে কেন এমন লেখা থাকলো। অামরা তো বহু ইসলাম বিদ্বেষী দেশে ভ্রমন করি,কিন্তু ইসরাইলে  কেন নয়? কারন ইসরাইল নামে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দেশের অস্তিত্ব থাকার কথা ছিলোনা। এটাও ছিলো,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পশ্চিমা শাসক গোষ্টির একটি কুটচাল। হিটলারের হাতে বেঁচে যাওয়া ইহুদিদের পুর্নবাসনে তারা তখন ইউরোপকে জঞ্ঝাট মুক্ত করতে বাকি ইহুদিদের মধ্যপ্রাচ্যে ঠিকানা তৈরী করে দেয়। নিজেরা বিপদমুক্ত হলেও প্যালেস্টাইনবাসীকে ফেলে দেয় স্থায়ী দুর্দশায়। এমন নয় যে ইউরোপে তাদের জন্য থাকার মত কোনো জায়গা ছিলোনা। ইউরোপের বহু দেশের বহু জায়গা এখনো কোনো বসত বাড়ি পর্যন্ত নেই। সে সব দেশের কোথাও তাদের ঠিকানা হতে পারতো। কিন্তু তা তারা করেনি। কারন,হিটলারকে গালি দিলেও,পশ্চিমা শাসকরা জানে ইহুদিরা কত খারাপ।তাই তারা ঝুঁকি নিতে চায়নি… অার মনে রাখতে হবে,পৃথিবীর সব সম্প্রদায়ের কমন শত্রু হচ্ছে ইসলাম অার মুসলমান। অার সেকারনে তারা এই বজ্জাত সস্প্রদায়কে মধ্যপ্রাচ্যে গছিয়ে দিয়ে নিজেরা বিপদমুত্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি ধর্মভীরু দেশ,ধর্মান্ধ নয়। সস্প্রতি হাসিনা সরকার যে মতলবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে.. ধরুন এখন সরকারে হাসিনা নয়,খালেদার নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায়, বিএনপি সরকার পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে  ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে.. ভাবুন তো দেশব্যাপী কি প্রতিক্রিয়াটাইনা হতো। তখন মুনতাসির মামুনরাও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কত শত কথা লিখতেন। বায়তুল মোকাররম্মের সামনে প্রতিদিন মিছিল হতো,হয়তো বেগম জিয়াকে মুরতাদও ঘোষনাও করা হতো। কিন্তু এমন একটা স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের পর,কোন ধরনের টু শব্দটি শুনতে পান কেউ!

মনে রাখা ভালো, পৃথিবীতে যারা যত সংখ্যালঘু, যারা বেশী নিজেদের অসহায় মনে করে,তারা কিন্তু নিজেদের স্বার্থে ততবেশী একত্রিত। এবং দেখবেন সংখ্যা লঘুরা তাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ডিংতৈরী করতে সচেষ্ট থাকেন।

ভারত হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র হিন্দুরাষ্ট্র, অার ইসরাইল হচ্ছে একমাত্র ইহুদিরাষ্ট্র। সুতরং দুই সংখ্যা লঘুর সাথে সস্পর্কটা হওয়া যৌক্তিক। ধরুন অাজ যদি ভারতকে চীন অাক্রমন করে,অথবা পাকিস্তানের সাথে বড় কোনো যুদ্ধ বাঁধে তবে,ভারতকে সাহায্য করতে সবার এগিয়ে অাসবে যে দেশ, সে দেশ হচ্ছে ইসরাইল।

কিন্তু এই সমীকরনে বাংলাদেশ কেন হঠাৎ কেন জড়ালো! প্রশ্নটা অনেক স্বাভাবিক। সত্যি কথা বলতে কি বাংলাদেশের এখন কোনো সুনির্দ্দিষ্ট কোনো ফরেন পলিসি নেই,দিল্লী যা বলে সেটাই করি।পররাষ্ট্রমন্ত্রী যতই বলুক না কেন,অামরা সোভরেন কান্ট্রি,কিন্তু সরকারের কাজেকর্মে তার প্রতিফলন দেখতে অামরা খুব একটা পাইনা। বাংলাদেশ কি জনগনের কথাবার্তা রেকর্ড করতে অাঁড়িপাতা যন্ত্র কেনে নাই? অনেকে বলবেন,ওঠা ইসরাইলে র হলেও কিনেছে তো তৃতীয় দেশ থেকে। কথা ঠিক। নতুন বউ যখন কাজ করেন,তখন ঘোমটা দিয়েই হেঁসেল সামলায়,এরপর তার ঘোমটা কখন কোথায় থাকে,সেটা জানে তার বাড়ি্র লোক। অার তাই বলছি,অাজ তৃতীয় দেশ থেকে কিনেছে কাল যে সরাসরি কিনবেনা,তার কি গ্যারান্টি অাছে? কারন স্বেচ্ছাচারি সরকা্র নিজের স্বার্থে সব সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে জনগনের চাওয়া পাওয়ার অবস্থান কোথায়?

হঠাৎ করে ইসরাইলে  ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলেন, সেটা অাপনারা দিতেই পারেন। কিন্ত ব্লিটজ নামের একটি পত্রিকার সাথে জড়িত সালাহ উদ্দীন শোয়েব চৌধুরীকে ইসরাইল কানেকশনের জন্য ছিয়া নব্বইয়ের অাওয়ামী লীগ সরকার জেলে পুরেছিলো। সেটা না হঢ বাদ দিলাম। বিএনপির অন্যতম নেতা নেতা চাটগায়ের অাসলাম চৌধুরী তার বিরুদ্ধেও তো ইসরাইলে র ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করার কথিত অপরাধে জেলে পাঠিয়েছিলেন? এখন তাহলে কি হবে?

বাংলাদেশ একটি ধর্মভীরু দেশ,ধর্মান্ধ নয়। সস্প্রতি হাসিনা সরকার যে মতলবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে.. ধরুন এখন সরকারে হাসিনা নয়,খালেদার নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায়, বিএনপি সরকার পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে  ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে.. ভাবুন তো দেশব্যাপী কি প্রতিক্রিয়াটাইনা হতো। তখন মুনতাসির মামুনরাও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কত শত কথা লিখতেন। বায়তুল মোকাররম্মের সামনে প্রতিদিন মিছিল হতো,হয়তো বেগম জিয়াকে মুরতাদও ঘোষনাও করা হতো। কিন্তু এমন একটা স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের পর,কোন ধরনের টু শব্দটি শুনতে পান কেউ!

- Advertisement -
পূর্ববর্তী নিবন্ধদাবা খেলার নিয়ম কানুন ও সূত্র
পরবর্তী নিবন্ধষ্টকহোম সিন্ড্রম

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

16 − fourteen =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা