34 C
Dhaka
শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১

এখানে পিঞ্জর: গ্রামের মধ্যবিত্ত্ব শ্রেনীর অবিকল রোজ নামচা

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

যাত্রিক পরিচালক গোষ্টির ছবি এটি। পরিচালক ত্রয় হচ্ছেন সচিন মুখার্জি,দিলিপ মুখার্জি অার অামাদের সবার প্রিয় তরুণ মজুমদার ওরফে তরুন মুখার্জি।
কলকাতা সিনেমায়.. সেই সময়ে জোটবদ্ধভাবে পরিচালনার একটি রীতি ছিলো। যাত্রিক বাদেও ছিলো, অগ্রদুত,অগ্রগামী গোষ্টি। যাইহোক।


এখানে পিঞ্জর ষাট দশকের পটভুমিতে রচিত একটি সিনেমা। ছবিটি অাজ নিয়ে অামি তিনবার দেখেছি। শুধু উত্তম কুমার অার অপর্না সেনের অভিনয় দেখতে ছবিটা অামি বার বার দেখেছি।এমনটা নয়। এখানে পিঞ্জর সিনেমার মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন ভারত।বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর.. সে দেশের রাজনৈতিক নেতারা যে এত বিপুল জনসংখ্যার দেশটি পরিচালনা করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে.. তারই একটি চালচিত্র এখানে পিঞ্জর ছবিটা।


গ্রামের স্কুল মাষ্টারের ছেলে নবেন্দু নাম ভূমিকায় দিলিপ।শিক্ষিত যুবক। কাজের সন্ধানে কলকাতা এসে কোনো কাজ না পেয়ে জড়িয়ে পড়ে স্মাগলিংয়ে.. একদিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে.. গ্রামে তার পঙ্গু বাবা, মা এবং সোমত্ত্ব দু’ বোন। অার এক বেকার ভাই। যে অাবার মাস্তান। ষাট, সত্তর দশকে এ রকম একটি শ্রেনী স্বাধীন দেশে নিজেরা নিজেদের কিং মনে করে সমাজে বিশৃংখলায় জড়িয়ে পড়েছিলো।


যাই হোক। অমলের নাম ভুমিকায় ছিলেন উত্তম কুমার
তিনি পেশায় লেখক। পথিমধ্যে তার সাথে দেখা হয়, তারই কলেজ পড়ুয়া বন্ধুর সাথে যিনি এখন পুলিশে কাজ করেন। অমলকে বহুদিন পর দেখে ধরে নিয়ে যায় তার অফিসে।


চিত্রনাট্যর পরের দৃশ্য,থানা হাজতে নবেন্দু। সে চা ফেলে দিয়েছে.. তাকে দেয়া চায়ে নাকি কেরোসিনের গন্ধ। সে ফেলে দিয়েছে,থানার বড়বাবুর কাছে নালিশ অাসলে,তিনি তাকে শাসাতে চান হাজতে। যাবার সময়,তার লেথক বন্ধুকে বলেন,কিরে যাবি না কি, তোর নতুন কোন গল্পের প্লট পেলেও পেতে পারবি। অমল যায়.. মুলত.. ছবির মুল কাহিনী শুরু এখান থেকে।


গ্রামের মধ্যবিত্ত্ব শ্রেনীর অবিকল একটি রোজ নামচা তুলে ধরেছেন, এখানে পিঞ্জর ছবির মাধ্যমে তরুন মজুমদার।


ছবির চিত্রনাট্য অনুসারে,দাদার কোনো খোঁজ নাই,সংসার চালানোর জন্য বড় মেয়ে নেমে পড়েন চোরাচালালানে.. এদিকে তার বড় ভাই,ট্রেনের ওয়াগন চুরি করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। সেই খবরটা দিতে অমল ট্রেনে করে তার বাড়িতে যাবার সময়,পুলিশের তাড়া খেয়ে একটি মেয়ে তার কামরায় অাশ্রয় নেঢ। পুলিশ সেটা টের পেয়ে সেখানে হানা দেয়
পরে সে তার হাতরের ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়।


এর পরের ঘটনা অারো নাটকীয়। অারও ঘটনাবহুল
একটি মফস্বল শহরের ক্ষয়ে যাওয়া একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে দিনের পর দিন একজন যুবক, অনায়াসে থাকছেন,তাদের সংসার খরচের টাকা দিচ্ছেন। শহরের জোতদার,লোফারের কাছ থেকে বাড়ী বন্দকের টাকা দিয়ে কৌশলে সে বাড়ি ফিরিয়ে অানছেন।কত ঘটনা। অামি ভাবি, এটা তখন কেন,এখনো এই সমাজে অহরহ ঘটছে.. অামি নিজে জানি এরকম কিছু ঘটনা..


তরুন মজুমদার ওরফে যাত্রিক গোষ্টি,দারুনভাবে তুলে ধরেছেন তার সিনেমায় সমাজের অনুচ্চারিত অনেক গুলো দিক। ছবিতে উত্তম কুমার লেখকের ভুসিকায় কেমন করেছেন,সেটা না হয় নাই বল্লাম। উত্তম মানে চীরদিনেরর উক্তম। ছবিতে স্মাগলার তরুনীর চরিত্রে.. অপর্না সেনের অভিনয়,মন ছুয়ে যায়।

তরুন মজুমদার,অসাধারন একজন পরিচালক, তার অনেকগুলো ছবি অামি দেখেছি। গ্রাম বাংলার দন্দ্ব নিয়ে তিনি ছবি করাতে বড়ই ওস্তাদ। বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় ১৯৩১ সালে তার জন্ম। চার চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কা্র পেয়েছেন।সাতটি বি.এফ.জে.এ. সম্মান, চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও একটি আনন্দলোক পুরস্কার। ১৯৯০ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে পান..
এখানে পিঞ্জব ছবির জন্য ও তিনি কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন..


তরুন মজুমদার, অভিনেতা সন্ধ্যা রায়ের স্বামী। সন্ধ্যা রায় অামার প্রানের শহর যশোরের বেজপাড়াতে জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে.. যাইহোক.. এখানে পিঞ্জর, ছবিটা দেখতে পারেন.. যারা সমাজ এবং দেশে নানা পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন তারা। অামার মনে হয় গবেষনার অনেক রসদ পেলেও পেতে পারেন।

ছবিটাতে অতুল প্রসাদের গান.. একা মোর গানের তরি ভাসিয়ে ছিলেন নয়ন জলে..


জীবনের কিছু কিছু রঙ.. সিনেমিটেকে অারো বেষী জীবনঘণিষ্ট করে তুলেছে।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four − 4 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা