28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

কাশ্মীরের অজানা ইতিহাস যা গণমাধ্যমে উঠে আসে না

যা পড়তে পারেন

:: এরশাদ নাবিল খান ::

কাশ্মীর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে আসে সবুজে পরিপূর্ণ স্বচ্ছ নীল জলাধারের নান্দনিক ছবি। পৃথিবীর ভূস্বর্গ বলে খ্যাত কাশ্মীরে জ্বলছে ৭২ বছর ধরে ভারতীয় ব্রাক্ষণ্যবাদী শক্তির নিষ্ঠুর আগ্রাসন। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রণীত হলে কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংকে দেয়া নেহরুর প্রতিশ্রুতি ৩৭০ এ ভারতের সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়। আর্টিক্যাল ৩৭০ এ এর ফলশ্রুতিতে ৩৫ এ ধারা সংযুক্ত হয়। দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে কাশ্মীর কে যে বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিল ভারতীয় ইউনিয়ন ৫ আগষ্ট সে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে মোদি-শাহ জুটি। এ নব্য নাৎসি আরএসএসের স্টলওয়ার্ট মোদি -শাহ জুটি কাশ্মীরের জনভিত্তি পরিবর্তন করে ফেলার দানবীয় পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। 


কাশ্মীরে যখনই পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার দিকে ধাবিত হয় তখন বাংলাদেশের প্রগতিশীল মিডিয়ায় তা স্বল্প পরিসরে উঠে আসে কিন্তু কাশ্মীরের সমস্যার মূল শিঁকড় কোথায় তা নিয়ে আলোচনা হয়না। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরেই মূলত গত সাত দশক ধরে স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন আশি লাখ কাশ্মীরি মুসলিমরা। পৃথিবীর ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরের আয়তন ২ লাখ ২২ হাজার ২৩৬ বর্গকিলোমিটার তারমধ্যে ভারতের নিয়ন্ত্রণে আছে ১ লাখ ১ হাজার ৫’শ ৯৭ বর্গকিলোমিটার। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণ মূলত ৩৭০ এ ধারার সুবিধাদি ভোগ করে আসছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় অঞ্চল হচ্ছে ৫৯ হাজার বর্গকিলোমিটারের লাদাখ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০’শ থেকে ৭৬০০ মিটার উপরে বরফাচ্ছন্ন লাদাখে মানুষের বসবাস সাকূল্যে ৩ লাখ। লাদাখের জনসংখ্যার ৩৯% বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী আর ডোগরি হিন্দু হচ্ছে ১৩% এর মতো বাদবাকি ৪৮% মুসলিম যারা শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী যাদের বেশিরভাগের বসবাস কারগিল জেলায়। যে কারগিল জেলা পাকিস্তান ১৯৯৯ সালে টানা ২ মাস দখল করে রেখেছিলেন।

১৯৮৯ সালের ১৯ জানুয়ারির কথা — ডোগরা সমাজসেবী ঠিকালাল একজন মুসলিম কাশ্মীরি কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। এরপর থেকে শুরু হয়ে যায় উভয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ১৯৮৯ এর জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের সহায়তায় জেল থেকে ছাড়া পায় ৭০ জন স্বাধীনতা পন্থী নেতা। পরিকল্পিত ইস্যু পণ্ডিত মুক্ত কাশ্মীর করা। কাশ্মীরের পণ্ডিতদের হত্যা শুধু সময়ে ব্যপার মাত্র। ১৯৯০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি হিজবুল্লাহ মুজাহিদিন এর আফতাব একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা করে সমস্ত হিন্দু এবং হিন্দু পণ্ডিতদের কাশ্মীর ছাড়তে হবে, আল-সাফা বলে অন্য আরো একটি সংবাদ পত্রে এই প্রকাশ করা হয়। এবং প্রতিটি পণ্ডিতের ঘরের দরজায় দরজায় কাশ্মীর ছাড়ার নোটিশ লটকানো হয় এমনকি উগ্রবাদীরা মসজিদের মাইকেও  ঘোষণা করে কাশ্মীরকে পাকিস্তান বানাতেই হবে। কাশ্মীর জুড়ে একটিই আওয়াজ পণ্ডিতমুক্ত কাশ্মীর। প্রখ্যাত সমাজসেবী শ্রী টিকালালকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্রীনগরে হত্যা করা হয় এরপর থেকে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর পাল্টা নির্যাতন শুরু হয়। যার বলি হয়েছে গত ৩০ বছরে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি, ধর্ষিত হয়েছে সাড়ে ১২ হাজারের মতো কাশ্মীরি নারী -শিশু। আহত ও পঙ্গু কাশ্মীরি নওজোয়ানের সংখ্যা তো অগণিত। 


জম্মু ও কাশ্মীরের ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে কাশ্মীরেই প্রায় ৭৫ লাখ লোকের বসবাস যার ৯৭ ভাগই মুসলিম। জম্মুতে ডোগরা তথা কাশ্মীরি পন্ডিতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। জম্মু ও কাশ্মীরের সর্বমোট ২২ জেলা তারমধ্যে ১৭ জেলায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, যে ৫ টি জেলায় মুসলিম সংখ্যালঘু তারমধ্যে ৪ টি হচ্ছে জম্মু ডিভিশনে আরেকটি লাদাখের লেহ জেলা যেখানে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। 


জম্মু ও কাশ্মীর উপমহাদেশের প্রথাগত নিয়মে বৌদ্ধ থেকে হিন্দু হয়ে ইসলামের পতাকাতলে আবদ্ধ হন। ১৩৩৯ সালে প্রথম মুসলিম শাসক শাহ মীর যখন ক্ষমতায় আসেন তখন এ অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই সীমিত ছিল। মুসলিম শাসনামল থেকে পুরো কাশ্মীর যিনি শাসন করতেন তিনি আলাদা আলাদা রাজ্যে নবাব নিয়োগ করতেন। বর্তমান পাকিস্তানের গিলগিট -বাল্টিস্তান, শিগার, হানজা, স্কারদু প্রভৃতি রাজ্যে আলাদা আলাদা নবাব ছিলেন। সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের উত্তর দিক হয়ে কারাকোরাম রেঞ্জ এর পাশেই অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্টের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ K2 যা পাকিস্তানে। 


ভারত বিভাজনের পর থেকে ভারতে সমাজতান্ত্রিক ধারণা জেঁকে বসে, ভারতের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের দহরম মহরম ছিল দেখার মতো। ১৯৫৪ সালে চীনের নেতা মাও সেতুং ভারত সফরে আসলে সেখানে তাকে বিপুল উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়া হয়। নয়াদিল্লিতে সমস্বরে স্লোগান উচ্চারিত হয় “ভারত চীনি ভাই ভাই “। তিব্বতে উস্কানির অভিযোগে ১৯৬২ সালে ভারত -চীন যুদ্ধ বেঁধে যায়, যুদ্ধে ভারত চীনের কাছে পরাজিত হয়। 


ভেবে আশ্চর্যান্বিত হবেন ১৯৬২ এর যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নেহেরুকে সেনা পাঠিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেয় যা সদ্য পর্তুগিজ কলোনি গোয়া দখলকারী অহংকারী নেহেরু ফিরিয়ে দেন। ১৯৬২ এর যুদ্ধে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের উপরের অংশ তথা লাদাখের উত্তর ও উত্তর -পূর্বাংশ এবং অরুণাচলের কিছু অংশ হারিয়ে ফেলে। চীন ভারতের সাথে গোপন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে অরুণাচল থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও “লাদাখের উত্তর ও পূর্বাংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি যা এখন আকসাই চীন নামে পরিচিত।


কাশ্মীরের ইতিহাস 

পঞ্চম শতাব্দী অবধি কাশ্মীরে হিন্দু ধর্ম ও পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্ম প্রভাব বিস্তার করে। নবম শতাব্দীদে গিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় শৈব ধর্মের উত্থান ঘটে। ১৩৩৯ সালে প্রথম মুসলিম শাসক শাহ্ মীরের হাত ধরে কাশ্মীরে ইসলাম বিস্তার হতে থাকে। এ সময় অন্যন্য ধর্মের প্রভাব হ্রাস পেলেও তাদের অর্জনসমূহ হারিয়ে না গিয়ে বরং মুসলিম অনুশাসনের সঙ্গে মিশে কাশ্মীরি সুফিবাদের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮১৯ সালে পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ৫০০ বছর অবধি মুসলিমরা কাশ্মীর শাসন করে। 


৫০০ বছরের মুসলিম শাসনামলে কাশ্মীরের বেশিরভাগ হিন্দু ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। কোন তরবারি কিংবা জোরপূর্বক নয় সুফিবাদের অপূর্ব মোহময়তায় তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকেন। এই ৫’শ বছরে কিছু কিছু অপ্রীতিকর জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও হয়েছে তা অস্বীকার করা অন্যায় হবে। ১৮১৯ সালের শেষাংশে শিখ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জিত সিং এর নেতৃত্বে শিখরা কাশ্মীর দখল করে নেয় এবং ১৮৪৬ সালে কাশ্মীরের তৎকালীন ইঙ্গ শিখরা ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলে ইংরেজরা কাশ্মীর দখল করে নেয়। পরে ৭৫ লাখ রুপি এবং সাথে  সামান্য বার্ষিক চাঁদার বিনিময়ে ব্রিটিশদের কাছ থেকে হিন্দু ডোগরি গুলাব সিংহ কাশ্মীর ক্রয় করেন এবং নতুন শাসক হন এবং ১৯৪৭ অবধি গুলাব সিংহের বংশধরেরাই কাশ্মীর শাসন করেন।


কাশ্মীরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূচনা

১৯২৫ সালে কাশ্মীরের রাজা হন হরি সিং এবং ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়া পূর্ব পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের শর্ত ছিলো, ভারতীয় উপমহাদেশের ৫৬৫ প্রিন্সলি রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে, অথবা স্বাধীনতা বজায় রেখে তাঁরা শাসনকাজ চালাতে পারবে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ডোগরি হিন্দু, আরএসএস এবং উগ্রপন্থী শিখ আকালি দলের লাখ খানেক কর্মী জম্মুর পুঞ্জ এলাকায় ব্যাপকভাবে মুসলিম হত্যা শুরু করতে থাকে। ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে তারা উত্তর কাশ্মীরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। জম্মুর নৃশংস গণহত্যার জন্য অনেক ইতিহাসবিদ গণ মহারাজা হরি সিংকে দায়ী করেন কিন্তু জম্মুর মুসলিম গণহত্যায় হরি সিং এর হাত ছিলনা। ভারতীয় শাসক নেহরুর পরোক্ষ নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। কাশ্মীর মুসলমানদের প্রভাবশালী নেতা শেখ আবদুল্লাহ ক্ষমতার মোহে এই হত্যাকাণ্ডের দায় হরি সিং এর ওপর চাপিয়ে দেয়। হরি সিং স্বাধীন দেশ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরকে রাখতে মরিয়া ছিলেন। 


১৯৪৭ সালের ১৭-১৮ অক্টোবর পাকিস্তান সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিদ্রোহী নাগরিক এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পশতুন উপজাতিরা কাশ্মীর রাজ্য আক্রমণ করে। শুরু হয় কাশ্মীরি রাজার পশতুদের সাথে যুদ্ধ। হরি সিংয়ের সাথে মিলে শেখ আবদুল্লাহও পাঠানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল হন। কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ছিলো হিন্দু আর কাশ্মীরি আমজনতা ৮৭% ছিলো মুসলিম, তাই হরি সিং তাদের মনোভাবের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বেশিরভাগ কাশ্মীরি আমজনতা চাইতো পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে। যাহোক, যুদ্ধের এক পর্যায় রাজা হরি সিং কে দিল্লিতে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতের তৎকালীন গভর্নর- জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন হরি সিংকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহবান জানান। বিভিন্ন দেন দরবার করার  বিনিময়ে হরি সিং ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর একটি চুক্তি স্বাক্ষর  করেন যাতে উল্লেখ ছিলো তিনি ভারতভুক্ত হবেন এবং ২৭ অক্টোবর গভর্নর- জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর ভারতীয় সেনারা কাশ্মীরে প্রবেশ করে। অপরদিকে কাশ্মীরের পাকিস্তানি প্রান্ত দিয়ে পাকিস্তানি সৈন্য কাশ্মীরে প্রবেশ করে। হরি সিং প্রথম দিক দিয়ে কাশ্মীর একাই স্বাধীন ভাবে শাসন করতে চেয়েছিলো কিন্তু যখন পাকিস্তান আক্রমণকারীদের সরাসরি মদত দিচ্ছে, তখন হরি সিং বাধ্য হয়ে ভারতভুক্ত হয়। অতএব, শুরু হয় এবার ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ, ইস্যু কাশ্মীর। প্রায় কয়েক মাস যুদ্ধ চলার পর ১৯৪৮ সালে নেহেরু আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রায় ৪ বছর পর যুদ্ধ বিরতি হয়। যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব অনুসারে কাশ্মীর থেকে ভারতের সৈন্য প্রত্যাহার ও গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়। ভারত প্রথমে সৈন্য প্রত্যাহারে রাজি হলেও গণভোটে রাজি ছিলোনা। ভারতের ধারণা কাশ্মীরে যেহেতু মুসলিম বেশি তাই ভোট পাকিস্তানেই যেতে পারে বেশি। অন্যদিকে পাকিস্তানও কাশ্মীরের পাকিস্তানের অংশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে রাজি হয়না। ফলে উভয় দেশের সৈন্যই তখন থেকে কাশ্মীরে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে কাশ্মীর ইস্যু নিয়েই দুই দেশের মধ্যে আবার যুদ্ধ হয় – ১৯৬৫ সাল এবং ১৯৯৯ এর কার্গিল যুদ্ধ। তাছাড়া বিচ্ছিন্ন যুদ্ধ তো আছেই।


কাশ্মীর থেকে হিন্দু পন্ডিতদের নির্বাসন

এখন একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে, মানে ১৫৮৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর কাশ্মীর দখল করেন। মোগল শাসনামলে হিন্দুরা ব্যক্তি, সম্পত্তি নিরাপত্তা এবং উচ্চতর সরকারি কর্ম পদ লাভ করে। আকবরের আমলে কাশ্মীরের হিন্দু পণ্ডিতগণ সুখে শান্তিতে স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে লাগলো আবার কেউ কেউ নিজ ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো। 


কাশ্মীরের ইতিহাসে একমাত্র বাদশা আকবরই দিয়েছিলেন কাশ্মীরিদের পূর্ণ আজাদি , তা ছাড়া হিন্দু মুসলিম যেই শাসকই এসেছে সবাই কাশ্মীর শাসন করেছে জনতার আজাদি দেয়নি।


এবার আরো একটু ইতিহাসের পেছন দিকে দেখি, এখন বলছি ১৯৮৯ সালের ১৯ জানুয়ারির কথা — ডোগরা সমাজসেবী ঠিকালাল একজন মুসলিম কাশ্মীরি কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। এরপর থেকে শুরু হয়ে যায় উভয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ১৯৮৯ এর জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের সহায়তায় জেল থেকে ছাড়া পায় ৭০ জন স্বাধীনতা পন্থী নেতা। পরিকল্পিত ইস্যু পণ্ডিত মুক্ত কাশ্মীর করা। কাশ্মীরের পণ্ডিতদের হত্যা শুধু সময়ে ব্যপার মাত্র। ১৯৯০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি হিজবুল্লাহ মুজাহিদিন এর আফতাব একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা করে সমস্ত হিন্দু এবং হিন্দু পণ্ডিতদের কাশ্মীর ছাড়তে হবে, আল-সাফা বলে অন্য আরো একটি সংবাদ পত্রে এই প্রকাশ করা হয়। এবং প্রতিটি পণ্ডিতের ঘরের দরজায় দরজায় কাশ্মীর ছাড়ার নোটিশ লটকানো হয় এমনকি উগ্রবাদীরা মসজিদের মাইকেও  ঘোষণা করে কাশ্মীরকে পাকিস্তান বানাতেই হবে। কাশ্মীর জুড়ে একটিই আওয়াজ পণ্ডিত মুক্ত কাশ্মীর।
প্রখ্যাত সমাজসেবী শ্রী টিকালালকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্রীনগরে হত্যা করা হয় এরপর থেকে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর পাল্টা নির্যাতন শুরু হয়। যার বলি হয়েছে গত ৩০ বছরে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি, ধর্ষিত হয়েছে সাড়ে ১২ হাজারের মতো কাশ্মীরি নারী -শিশু। আহত ও পঙ্গু কাশ্মীরি নওজোয়ানের সংখ্যাতো অগণিত। 


বর্তমান কাশ্মীর

বর্তমান কাশ্মীরের অবস্থানের কথা বলতে গেলে– এক কথায় বলতে হয় সমস্ত নির্যাতনের সীমারেখা পাড় করে ফেলেছে ভারত। 


ভারত কি করতে দেবে কাশ্মীরিদের স্বাধীন জীবনযাপন? না! ভারত কাশ্মীরের আমজনতা চায়না, ভারত চায় কাশ্মীরের জমিন।


মজার ব্যপার হলো ভারত- পাকিস্তান উস্কানিতে পড়ে কাশ্মীরকে ইস্যু করে যুদ্ধ করছে আর ফায়দা লুটে নিচ্ছে –আমেরিকা, রাশিয়া, এবং চায়না।


একটু ভাবুন,  চায়না হচ্ছে পাকিস্তানের সব চেয়ে বড় বন্ধু। এবং পাকিস্তান হচ্ছে বন্ধু চায়নার সবচেয়ে বড়ো অস্ত্রের গ্রাহক, মানে প্রতি বছর ৩৩% অস্ত্র চায়না থেকে ইমপোর্ট করে পাকিস্তান, উদ্দেশ্য নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবেলা করা।
অন্য দিকে ভারত এই বছর আমেরিকা এবং রাশিয়ার সবচেয়ে বড়ো অস্ত্রের গ্রাহক। কেন এতো অস্ত্র কেনা উদ্দেশ্য কাশ্মীর দখল।.

লেখকঃ অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ব্লগার 

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

10 + 16 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা