29 C
Dhaka
শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১

কাহলিল জিবরান: কবি ও দার্শনিক

যা পড়তে পারেন

:: আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু ::

কবি হিসেবে কাহলিল জিবরানের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। তিনি ১৮৮৩ সালে বৈরুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, লেখক, শিল্পী এবং অনেকে তাঁকে দার্শনিক বলেও বিবেচনা করেন, যদিও তিনি সবসময় তাঁর দার্শনিক সত্তাকে অস্বীকার করেছেন। তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থ “দ্য প্রফেট” এর জন্যই অধিক খ্যাতির অধিকারী, যেটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে এবং তখন থেকে এটি বেস্ট-সেলিং গ্রন্থ এবং ১০০টির বেশি ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে। লেবাননের বৈরুতে জন্মগ্রহণকারী কাহলিল জিবরান ১৮৯৫ সালে তাঁর মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন এবং বোস্টনে পড়াশোনার পর ১৯১১ সালে নিউইয়র্কে স্থায়ী হন। ১৯০৫ সালে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় আরবিতে। তাঁর লেখক ও কবি জীবনের শুরুর দিকের অধিকাংশ লেখাই ছিল আরবি ভাষায়। ১৯১৮ সালের পর তাঁর প্রথম ইংরেজি বই প্রকাশিত হয় “দ্য ম্যাডম্যান।” ১৯২১ সালে ডাক্তাররা তাকে ছয় মাসের জন্য সব ধরনের কাজ ছেড়ে দিতে এবং খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ বা বিশ্রাম নেয়া ছাড়া আর কোনো কিছু করতে নিষেধ করেন। এ সময়েও তিনি বেশ কিছু চমৎকার আরবি কবিতা রচনা করেন। সেরে ওঠার পর ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা সম্পন্ন করেন। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় তাঁকে ১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসে নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেদিনই তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৮ বছর। তাঁকে লেবাননে কবরস্থ করা হয়। তিনি তাঁর এপিটাফ লিখেছেন: “আমি তোমার মতই জীবিত/এখন আমি তোমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছি/তোমার চোখ বন্ধ করো এবং চারপাশে তাকাও/তুমি আমাকে তোমার সামনেই দেখতে পারে।”

জীবনের উদ্দেশ্য

শুধু সৌন্দর্য আবিস্কার করতেই আমরা বেঁচে থাকি,

বাদবাকি সবকিছুই প্রতীক্ষার একটি রূপ।

ছায়া

এক শিয়াল সূর্যোদয়ের সময় নিজের ছায়া দেখে বলে,

“আজ একটি উট দিয়ে সারবো আমার মধ্যাহ্নভোজ।”

শিয়াল সারাটা সকাল কাটায় উটের সন্ধানে,

দুপুরে আবার সে নিজের ছায়া দেখে এবং বলে,

“একটি ইঁদুরেই ক্ষুধা মিটবে।”

বৃক্ষেরাই কবিতা

বৃক্ষগুলোই কবিতা,

যা দিয়ে মাটি আকাশের ওপর লেখে।

আমরা বৃক্ষ কেটে ফেলি এবং

সেগুলোকে রূপান্তরিত করি কাগজে,

এভাবেই আমরা আমাদের শূন্য করি।

নি:সঙ্গতা

নি:সঙ্গতা নীরব এক ঝড়,

যা ভেঙে ফেলে আমাদের সব মৃত শাখা,

কিন্তু ঝড়ই আমাদের জীবন্ত শেকড়গুলোকে

জীবন্ত মাটির জীবন্ত হৃদয়ের গভীরে পাঠায়।

লাল মাটি

একটি বৃক্ষ একজন মানুষকে বলে,

“আমার শেকড় লাল মাটির অনেক গভীরে,

এবং আমি তোমাকে আমার ফল দেব।”

লোকটি গাছকে বলে, “আমরা কতটা অভিন্ন।

আমার শেকড়ও লাল মাটির গভীরে;

লাল মাটি তোমাকে ক্ষমতা দিয়েছে

আমাকে তোমার ফল দেওয়ার জন্য,

এবং লাল মাটি আমাকে শিক্ষা দিয়েছে

তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ফল নেয়ার জন্য।”

জীবন্ত পানি

এর মাঝেই রয়েছে আমার সম্মান ও আমার পুরস্কার;

কারণ যখনই পানি পান করতে ঝরনার কাছে

এসে আমি জীবন্ত পানিকেই তৃষ্ণার্ত দেখি,

আমি পানি পান করি, পানি আমাকে পান করে।

পরিতৃপ্তি ও মিতব্যয়িতা

যাকে আমরা পরিতৃপ্তি বলি

প্রকৃতির কি তা খেয়াল করা উচিত?

কোনো নদী সাগরের সন্ধান করে না,

শীত কখনো বসন্তে পরিণত হতে চায় না।

আমরা যে এই বাতাসে নি:শ্বাস নিয়ে পরিতৃপ্ত

বাতাসের কি সেদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত?

সম্পত্তি

তোমার ধন-সম্পত্তি কী আছে,

যা আগামীকাল প্রয়োজন হতে পারে ভেবে

তুমি সংরক্ষণ করো ও পাহারা দাও ?

এবং আগামীকাল; অতি-বিচক্ষণ কুকুরের জন্য

আগামীকাল কী নিয়ে আসবে, যে কুকুর

সীমাহীন বালিতে হাড্ডি পুঁতে রেখে

হজ্বযাত্রীদের পবিত্র নগরীতে অনুসরণ করে?

প্রয়োজনের ভয় ছাড়া নিজের প্রয়োজন কী?

তোমার কূপ যখন ভরা তখনই কি

অনিবারিত তৃষ্ণার ভয় বেশি থাকে না?

গুপ্তধন

মাটির যেকোনো জায়গা খনন করো,

তাহলেই তুমি গুপ্তধন পাবে।

শুধু তোমাকে খনন করতে হবে

একজন চাষীর বিশ্বাস নিয়ে।

জীবন এক মিছিল

জীবন এক মিছিল,

যার পা মন্থর তার কাছে এটি দ্রুত মনে হলেও,

সে মিছিলে অংশ নেবে।

যার পা দ্রুততর তার কাছে মিছিলের গতি

ধীর মনে হবে এবং সে মিছিলে অংশ নেবে।

১০

নীরবতায় গান গাওয়া

জীবন আমাদের নীরবতায় গান গায়,

এবং স্বপ্ন হয়ে আসে আমাদের তন্দ্রায়।

এমনকি আমরা যখন প্রহৃত অপমানিত হই,

জীবন তখনও অধিষ্ঠিত থাকে উচ্চ মর্যাদায়,

আমরা যখন কাঁদি, সেদিন জীবন হাসে।

শেকলে বেঁধে আমাদের টেনে নেয়া হলেও

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

nineteen − 13 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা