30 C
Dhaka
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

তিনকড়ি হালদারের মতো সমাজের বিবেক হবার কেউ কী আছে?

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

একদিকে আনন্দ,কোলাহল জীবনের ভোগ উৎসব অন্যদিকে তিলে তিলে নিজেকে মৃত্যুর হাতে সপে দেয়া। নিজেকেই নিয়েই আমরা ব্যস্ত। আমরা চলেছি, ছুটে চলেছি। অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন,অনেক ভবিষ্যত ভেঙ্গে, চুরে, মাড়িয়ে আমরা আমাদের চলার পথ করে দিচ্ছি। থামতে আমরা ভয় পাই,পাছে আবার সত্যের মুখোমুখি হয়ে পড়ি। তবু আমাদের সব আনন্দ, কোলাহলের মাঝখানে মুহুর্তের জন্য সময় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায়,যদি আমাদের আনন্দ উৎসবের আলোগুলি যদি হঠাৎ ম্লান হয়ে আসে,তবে সেই ক্ষনিকের ম্লান আলোয় আমরা দেখতে পাবো, আমাদের নিজেদের চেহারাগুলো নিষ্ঠুর, ভয়ংকর। দেখে নিজেরাই শিহরে উঠবো। পরমুহুর্তে আবার সময়ের কাঁটা এগিয়ে চলবে।আবার জ্বলে উঠবে সব আলো। আবার আমরা ফিরে যাবো আমাদের নিরাপদ সামাজিক সত্ত্বায়। ভুলে যাবো মুহুর্তকাল আগের সেই সাবধানবাণী। আমাদের এই উন্মাদ হয়ে ছুটে চলার মাঝখানে যে হঠাৎ করে সাবধানবাণী টুকু জানিয়ে দিয়ে যায়, সে আমাদেরই সত্য বিবেক!

প্রশ্ন হচ্ছে…দেশে কি এখন তিন কড়ি হালদারের মতন কোনো সৎ পুলিশ অফিসার কি এখনো অবশিষ্ট আছে? যাকে সিগারেট অফার করলেও অনায়াসে বলে দিতে পারেন। আমি ডিউটিরত অবস্থায় সিগারেট খাই না! যিনি সিনেমার পুলিশবেশী তিনকড়ি হালদারের মতন সত্যান্বেষী হয়ে সমাজের বিবেক হয়ে উঠতে পারেন, আছে কি কেউ?

কথাগুলো ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া কলকাতার বাংলা থ্রিলার ছবি থানা থেকে আসছি’র ভূমিকা। উত্তম কুমারের কন্ঠের এই কথাগুলো ছবিটির মূল উপজীব্য।পরিচালক হিরেন নাগ বৃটিশ নাট্যকার জে বি প্রিস্টলির অ্যান ইন্সপেক্টর কলস নাটকটির কাহিনী মূলত অ্যাডাপ্ট করেছেন তার থানা থেকে আসছি ছবিতে।

সিনেমাটা যারা দেখেছেন,তাদের কাছে গল্পটা বেশ পরিচিত। ধনী ব্যবসায়ী অমরনাথ মল্লিকের একমাত্র মেয়ের এনগেজমেন্ট।বিশাল আয়োজন সমাজের গণমান্যরা সেই বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথি। অনুষ্ঠানের রোশানাই যখন শেষ। সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান শেষের তৃপ্তি নিয়ে যখন বাড়ির কর্তা অমর মল্লিক তার স্ত্রি,কন্যাপুত্র নিয়ে যখন বাড়ি ফিরলেন। ঠিক তথনই আবির্ভাব দাপুটে পুলিশ ইন্সপেক্টর তিন কড়ি হালদারের। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় কারবোলিক এসিড খেয়ে সন্ধ্যা মন্ডল নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার কাছে একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে,সেই সূত্রে তিনি আত্মহত্যার তদন্ত করতে এসেছেন। ইন্সপেক্টর জানালেন অমর মল্লিকসহ তার পরিবারের সবাই এমনকি তার হবু জামাইয়ের কথাও। তারা প্রত্যেকেই কিভাবে তরুনীটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছিলো তার সব কথা। অবশেষে তারা প্রত্যেকেই কিভাবে মেয়েটির সাথে পরিচয়,মেয়েটির সাথে তারা কি আচরণ করেছিলেন,একে একে তিন কড়ি হালদারের কাছে খুলে বলেন।

পরে, পুলিশ ইন্মপেক্টর যখন সবার স্বিকারোক্তি নিয়ে বিদায় হলেন। তখন বাড়ির কর্তা থানায় তারই এক আত্মিয় পুলিশ কমিশনারের কাছে ফোন করে পুরো ঘটনা বললেন,তখন সেই পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন,ওই নামে ওই থানায় কোনো অফিসার নেই। কখনো ছিলোনা। কোনো ডায়েরি আর কোনো তরুনী আত্মহত্যার কথা তো বলাবাহুল্য।

তাহলে কে এই পুলিশ অফিসারবেশী তিন কড়ি হালদার?

সিনেমার সূচনাতেই তা বলা ছিলো। তিনি আর কেউ নন তিনি আমাদের বিবেক।

তিনকড়ি হালদারের ভূমিকায় উত্তম কুমার, সন্ধ্যা মন্ডলের ভূমিকায় মাধবী চক্রবর্তী এছাড়া কমলমিত্র ,দিলিপ মুখার্জি অঞ্জনা ভৌমিক,ছায়াদেবি,জহর রায় প্রমুখ সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন।

আমি সিনেক্রিটিক নই। তাই কোনো রিভিউও লিখতে বসিনি। তবে, এই ছবিটির কথা মনে পড়লো,গুলশানের ফ্লাটে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের আলোচিত তরুনীর মৃত্যুর সাথে কোথায় যেন এই সিনেমাটার একটা সাজুয্য খুজে পাচ্ছি। কোথায় যেন একটা অদৃশ্য মিল পাওয়া যাচ্ছে। সমাজের উঁচু তলার কিছু নামও তার মৃত্যুর পেছনে পত্রপত্রিকা এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ঘুর ঘুর করছে। খানকতক ডায়েরিও নাকি মিলেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে…দেশে কি এখন তিন কড়ি হালদারের মতন কোনো সৎ পুলিশ অফিসার কি এখনো অবশিষ্ট আছে? যাকে সিগারেট অফার করলেও অনায়াসে বলে দিতে পারেন। আমি ডিউটিরত অবস্থায় সিগারেট খাই না! যিনি সিনেমার পুলিশবেশী তিনকড়ি হালদারের মতন সত্যান্বেষী হয়ে সমাজের বিবেক হয়ে উঠতে পারেন, আছে কি কেউ?

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

sixteen + one =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা