28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উৎখাতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

ত্রিশ ডিসেম্বরের মিডনাইট নির্বাচনের আ গে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন ভাতা কয়েকদফা বাড়ানো হয়।সে সময় স্বয়ং পিএম গরব করে বলেছিলেন,সরকারী কর্মচারীদের বেতন বিশ্বের কোনো দেশেই এভাবে বাড়েনি। নুন যার খাই,গুনতো তার গাইবো। আ র তার প্রতিফলন আ মরা দেখলাম ত্রিশ ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচনে। আ র সেই নির্বাচনের পর থেকে মুলত: সরকার এবং দেশ চালাচ্ছে আ মলারা। আ র যে কারনে দুধ দেয়া গাভিরা যতই চাঠি দিকনা কেন,সরকার ডোন্ট মাইন্ড বলে মেনে নিচ্ছে। যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী জনগনের টাকায় মাইনে নেয়,তারাও নতজানু সরকারের আ ষ্কারায় জনগনকে দাস ঠাওরাচ্ছে। জবাবদিহীতা তো সোনার পাথর বাটি! এই যে স্বাস্থ্য খাতে বিপূল লুটপাট বিশৃঙ্খলা,তার কটা ঘটনার প্রতিকার হয়েছে শুনি। রোজিনার রিপোর্ট অনুয়ায়ী ওই যে টাকা দেয়া নেয়ার কেলেংকারী হলো। অযোগ্যদের নিযোগ দিতে সব রকম আ ইনের ব্যতয় ঘটানো হলো,তারই বা কি করেছে সরকার।

আর যে অতিরিক্ত সচিব রোজিনা ইসলামকে লাঞ্ছিত করলো,হেনস্থা করলো.. সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার এই অসদাচরনের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? কিছুই নেয়া হয়নি,উপরন্ত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্টো রোজিনার ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন। বলেছেন,সে না কি ওই এডিশনাল সেক্রেটারীকে খামছি দিয়েছেন। লেজিটেমেসি না থাকলে,সরকারের কোনো মোরাল পাওয়ার থাকেনা। আওয়ামী লীগ জানে সরকারের কোনো বৈধতা নেই,তারাই আওয়ামী লীগকে জনগনের সাথে প্রতারনা করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। সুতারং তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোন মুখ করে কথা বলবে!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে জানলাম,ওই অতিরিক্ত সচিব না কি অঢেল সম্পত্তির মালিক। দেশে বিদেশে তার একাধিক প্লট,ফ্লাট। আ রো শুনলাম স্বাস্থ্য খাতের কেলেংকারির নায়ক মিঠু নাকি তার নিকটাত্মিয়। তো এই সরকারী কর্মকর্তা কোনো আ লাদিনের আ শ্চর্য্য প্রদিপের ছোয়া পেলেন,যে রাতারাতি এত এত সম্পদের মালিক বনে গেলেন?

আর যে অতিরিক্ত সচিব রোজিনাকে লাঞ্ছিত করলো, হেনস্থা করলো.. সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার এই অসদাচরনের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? কিছুই নেয়া হয়নি, উপরন্ত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্টো রোজিনার ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন। বলেছেন,সে না কি ওই এডিশনাল সেক্রেটারীকে খামছি দিয়েছেন। লেজিটেমেসি না থাকলে, সরকারের কোনো মোরাল পাওয়ার থাকেনা। আওয়ামী লীগ জানে সরকারের কোনো বৈধতা নেই, তারাই আওয়ামী লীগকে জনগনের সাথে প্রতারনা করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোন মুখ করে কথা বলবে!

রোজিনার বিরুদ্ধে,অনেক কষ্টে শিষ্টে বৃটিশ আ মলে প্রণিত অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট নামের কালা কানুনে যে মামলা করেছেন, সেটা আ দালতে মেইনটেবল কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আ মার এক সময়ের সহকর্মী, প্রিয়ভাজন সালেহ ভাই বিশদ লিখেছেন। তাই ওই বিষয়ে আ মি আ র যেতে চাইনা। আ মার বক্তব্য হচ্ছে,সরকারের একটি তথ্য কমিশন আ ছে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহীতা নিশ্চিত এবং জনগন যাতে তথ্য পেতে পারে তার ব্যবস্থা না কি সরকার করেছে। তাহলে বৃটিশ কলোনিয়াল সিস্টেমের অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট টা এখনো কেন বহাল তবিয়তে থাকলো?

রোজিনার বিরুদ্ধে যে এফ আ ই আ র দায়ের করা হয়েছে,তার এক জায়গায় বলা হয়েছে। এমন কিছু গুরুত্বপুর্ন কাগজ সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো,যার দুএকটি পাবলিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে আ মাদের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতো.. আ মার প্রশ্ন হচ্ছে,স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় দেশের জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে,দেশের প্রতিরক্ষা কিম্বা পররাষ্ট্রবিষয়ক কোনো পলিসি কিম্বা গুরুত্বপুর্ন কোনো চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। তাহলে কি এমন অসম চুক্তি করা হয়েছিলো,যে যা প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্টের কারন ঘটবে। এসব প্রশ্ন এখন আ রো উঠবে। এজাহারে আ রো বলা হয়েছে,আ দালত যদি সেসব কাগজপত্র দেখতে চায়, মন্ত্রনালয় সেগুলো দেখাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রটা জনগনের সেই জনগনকেও জানতে হবে,সরকার জনগনের স্বার্থহানি করে বর্হিবিশ্বের কোনো দেশের সাথে কোনো দেশবিরোধী চুক্তি করছে কিনা।

সংবিধানে আ ছে বর্হিবিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে যেকোন চুক্তি, সমঝোতা কিম্বা দ্বিপাক্ষিক যেকোনো সিদ্ধান্ত চুক্তির তিনমাসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এরকম কোনো চুক্তির বিষয়ে এই সরকার সংসদকে অবহিত করেছে বলে অন্তত আ মার মনে পড়েনা। সংসদ তো অনেক পরের কথা। এমন এমন গুরুত্বপুর্ন বিষয় আ ছে,যেগুলো ক্যাবিনেটেই উপস্থাপিত হয়না। মন্ত্রীরা জানেনইনা,সে সম্পর্কে। দয়া করে যদি প্রধানমন্ত্রী তাদের না বলেন। অথচ এটা রীতিমত রুলস অব বিজনেসের ভয়াবহ ব্যতয়। একটা উদহারন দেই, যেটা প্রধানমন্ত্রী পাবলিক করেছিলেন তার বক্তৃতায়। তিনি সেরামের টিকা অনেক উন্নত দেশ পাবার আ গেই বাংলাদেশ কিভাবে পেলো,তাঁর নিজের দুরর্দশিতার বয়ান দিতে গিয়ে প্রকাশ্যেই বলেন, তার বেসরকারী বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান রহমান একদিন তার কার্যালয়ে এলেন,বললেন,সেরামের টিকা প্রসঙ্গে। তার বেক্সিমকো ফার্মা এটা আ নতে চায়। তাৎক্ষনিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে আ ট মিলিয়ন টাকা দেবার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু এভাবে সরকারী পারচেজ করা যায়না। ক্যাবিনেটে অনুমোদন হতে হয়,টেন্ডার দিতে হয়। তারপর যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতে হয়। কিন্তু এসব নিয়ম অনুসরণ না করে,বেক্সিমকোকে সরকারী অর্থায়নে টিকা কেনার অনুমতি দেয়া হলো। আ মার যতদুর জানা আ ছে,সরকারের একটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আ ছে,এসেন্সিয়াল ড্রাগ নামে তাদের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আ ছে। সরকারি পারচেজ তো সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়াটা ছিলো নিয়মতান্ত্রিক। কিন্তু সেটা না করে কোনো প্রকার যোগ্যতা যাচাই না করে,বেক্সিমকোকে টিকা আ নার দায়িত্বব দেয়া কি আ ইনের ব্যতয় নয়। টেন্ডার দেয়া হলে দেশে আ রো ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আ ছে,তাদের অনেকগুলোই যথেষ্ট যোগ্য। তাহলে কেন তাদেরকে ডাকা হলোনা।

আ র বেক্সিমকো মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান এবং একটি উৎস থেকে টিকা আ নার চেষ্টা যে সরকারের ভুল পরিকল্পনা ছিলো,সেটা তো এখন টের পাওয়া যাচ্ছে। সেরাম টাকা নেয়ার পরও টিকা দিচ্ছেনা বেক্সিমকোকে। সরকার অগত্যা চীনের কাছে টিকার জন্য ধর্না দিচ্ছে।

ফিরে আ সি মুল কথায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিনের ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতে নেওয়ার মাধ্যম জনগনের ভোট অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রশাসনের সহায়তা সরকার গঠিত হয়ছে।

ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে আমলারা জনগনকে পরিনত করেছে দাসে।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সকল ক্ষমতার উৎস এখন সিভিল এবং সেই সাথে মিলিটারি প্রশাসন।

দেশের সব বড় বড় কাজ এখন করছে মিলিটারিরা। এমন নয় যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের এসব কাজ করার সক্ষমতা নেই। কিন্তু সরকার কেন মিলিটারিকে দিচ্ছে,তার কারন ক্ষমতায় থাকতে হলে তাদেরও খুশী রাখতে হবে যে!

আ র তাই,আ জ রোজিনা হেনস্থা হয়েছে,কাল আ মি হবো,পরশু আ পনি। এই সরকারের মেশিনারিজ অত্যন্ত ভয়ংকর। এদের লেজে পা দিলে কারো রক্ষে নেই,সে আ পনি নিজে যেই হন। ফ্যাসিবাদী গোষ্টির স্থায়ী বন্ধু বলে কিছু নেই। তাদের স্বার্থে আ ঘাত করলে আ পনি প্রথম আ লো কিম্বা আপনি রোজিনা,আপনার জামাই মনিরুল ইসলাম মিঠু এক সময় ক্যাম্পাসে ছাক্রলীগ করতেন,পরে যুবলীগ করেন,এসব তখন গোনায় ধরেনা। ক্ষমতায় থাকতে গেলে দুএকজন এমন বলির পাঠা করতে তাদের জন্য কোনো ব্যাপারই না।

তাই সময় এসেছে, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উৎখাতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের। আর কোনো বিকল্প আছে কি!

লেখকঃ বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

12 − 9 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা