28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে ৯৭ শেয়ারের দাম

যা পড়তে পারেন

:: তাহসিন আহমেদ ::

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭১ শেয়ারসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজের মধ্যে ৯৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে।

তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলোর মধ্যে যখন বড় অংশের কোনো কেনাবেচা হচ্ছে না, তখন নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারকে ঘিরেই শেয়ারবাজারের প্রায় পুরো লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, পুরো বাজারের লেনদেন গুটিকয় শেয়ারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ার মূল কারণ বীমা খাতের কিছু শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকার প্রবণতা। সাম্প্রতিক সময়ে যখন যে শেয়ারের দাম বাড়ছে, তখন সেটি বাড়তেই থাকে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেসব শেয়ারের পেছনে ছুটতে থাকে। এ কারণে অন্য শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে।

গত বছরের মার্চে ফ্লোর প্রাইস আরোপের সময় এর মধ্যে অনেকগুলোর মূল্য যৌক্তিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি ছিল। সর্বনিম্ন বাজারদর বেঁধে দেওয়ার পর ওই শেয়ারগুলো দর সংশোধনের সুযোগ পায়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরাও এসব শেয়ার কিনছেন না। তাদের ভয়, ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হলে এগুলোর দর কমবে বেশি।

বিশেষজ্ঞ অনেকে ফ্লোর প্রাইসকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আগে কিছু বিনিয়োগকারী এর পক্ষে ছিলেন। তবে এখন দর না কমলেও শেয়ার বিক্রি করতে না পারাটা অনেকের জন্য বড় ধরনের ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুটিকয় শেয়ারকে কেন্দ্র করে লেনদেন আবর্তিত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি আবারও কারসাজির বিষয়টি সামনে এনেছেন। এ চক্রের ইচ্ছায় শেয়ারদর বাড়ে বা কমে। বাকিরাও লাভের আশায় তাদের পেছনে ছোটে। ফলে বাজার লেনদেন এককেন্দ্রিক হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, প্রকৃত বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি ভালো শেয়ার বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা মূলত শেয়ারবাজারে আসেন মুনাফা করতে। যে শেয়ারের দর দ্রুত বাড়ে, তারা সে শেয়ারেই থাকতে চান। এখন যেহেতু অল্প কিছু শেয়ারের খুব দ্রুত দর বাড়ছে, তাই সবাই এসব শেয়ারে থাকতে চাচ্ছেন। পারলে অন্য শেয়ার বিক্রি করে বাড়তে থাকা শেয়ার কেনার চেষ্টা করছেন। তবে বিপুলসংখ্যক শেয়ারের তেমন ক্রেতা না থাকায় সবাই তা পারছেন না।

ফেব্রুয়ারির লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছয় মাস আগে ওটিসি থেকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনা সোনালী পেপারসহ মোট সাত কোম্পানির এক লাখ টাকারও শেয়ার কেনাবেচা হয়নি। এ তালিকায় আরও আছে- সি পার্ল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি। ডিএসইতে তালিকাচ্যুতির পর আবার লেনদেনে আসা রহিমা ফুডেরও ১০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়নি। ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকায় ডেল‌টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের মতো শেয়ারও কেনাবেচা প্রায় হচ্ছে না।

বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এখন কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য-ব্যর্থতার ইতিহাস জেনে বিনিয়োগ করছেন না। তারা সাময়িক লাভের আশায় কেনাবেচা করছেন। এ ধারা থেকে তাদের বের করা না গেলে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল ভিত্তি পাবে না।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

4 × 3 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা