31 C
Dhaka
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে

যা পড়তে পারেন

:: ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ::

এলডিসি’র তালিকা থেকে বেরিয়ে আমার এখন কোন দেশের তালিকায় থাকবো তাতো পরিস্কার বুঝতে হবে।বলা হচ্ছে আমরা এলডিসি (Least Developed Country বা সংক্ষেপে LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) হতে যাচ্ছি। কথাটির মানে হয় না। এটা সত্য, এবং একটা গৌরবের বিষয়ও যে আমরা এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসব।

কিন্তু আমরা সবসময়েই উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, কারণ এলডিসি হলো উন্নয়নশীল দেশ (Developing country)-গুলোর মধ্যেই কিছু দেশের গ্রুপ (উপ-গ্রুপ বা sub-group) যারা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে কিছু সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি সূচকের অনগ্রসরতা দিয়ে চিহ্নিত হয়; আমরা সেই সূচকের শর্তগুলো পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের সেই উপ-গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, এবং এলডিসি-এর সুবিধাগুলো এরপর থেকে আর পাব না, কিন্তু নতুন করে উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছি না। বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবী করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবী মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবী করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবী মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল না উন্নত দেশ তা নিয়ে এই মুহূর্তে অবশ্যই কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কাজেই সেদিক থেকেও আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছি এটা ঘোষণা দেবার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না। বাংলায় অনেকে লিখছেন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছি, কিন্তু সেটাও ঠিক নয়। এলডিসি-এর জুতসই কোন বাংলা প্রতিশব্দ নেই। আগে অর্থনীতির সাধারন ভাষায় উন্নত দেশ ছাড়া অন্যদেরকে Less Developed Country, বাংলায় স্বল্পোন্নত দেশ বলা হতো, কিন্তু শব্দটা কিছুটা অবমাননাকর মনে হতো বলে তার বদলে Developing Country বা উন্নয়নশীল দেশ কথাটার প্রচলন হয়েছে।এখন আমাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হল এলডিসি নয় এমন অসংখ্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে, বিশেষত এ অঞ্চলের ভিয়েতনাম, ভারত,পাকিস্তান, Indonesia-এর সঙ্গে আমরা রফতানি প্রতিযোগিতায় কী ভাবে সক্ষমতা ধরে রাখবো। এসব দেশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন শুল্ক- সুবিধার গ্রুপ (যেমন ASEAN)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। এছাড়া দেশীয় শিল্পে সংরক্ষণের সুবিধায় আমাদের কিছু ছাড় দিতে হবে এবং বিশেষতঃ কিছু পেটেন্ট সংক্রান্ত সুবিধা চলে গেলে আমাদের সমস্যা হবে।

এলডিসি হওয়া সত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তৈরী পোষাক রফতানিতে কোনো শুল্ক ছাড় দেয় নি। বরং বেশ কয়েক বছর আগে দেশটি উন্নয়নশীল অনেক দেশকে দেয়া GSP সুবিধার তালিকা থেকেও বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছে, যা আমাদের কূটনৈতিক চেষ্টা সত্বেও ফিরে পাওয়া যায় নি। রফতানি বহুমুখী করতে এটা এখন একটা বড় বাধা হবে।আমাদের বিশেষ ভাবে দরকার ব্যক্তিখাতের রফতানিমুখী শিল্পে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার মত পরিবেশ তৈরী করা। এধরণের বিনিয়োগে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে রফতানি বহুমুখী করা যেমন সম্ভব হয়, তেমনি রফতানি বাড়ার ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরী করে না। ভিয়েতনামের বড় সাফল্য এখানেই।

লেখকঃ প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

fifteen − 8 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা