27 C
Dhaka
সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

বিদিশার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ভারত

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

‘র’ খেলছে.. কিন্ত হিন্দুস্থানের গোয়েন্দা সংস্থাটি শতরঞ্জ কি খিলাড়ি চিনতে বড্ড ভুল করেছে। বোধ করি.. বিদিশার মত কোনো বড়ের চাল দিয়ে কিস্তি মাত করাটা অতটা সহজ হবেনা!

কিন্ত কেন, হিন্দুস্থান বিদিশাকে ভর করলো। এর নেপথ্যে অনেকগুলো কারন অাছে। জি এম কাদের এরশাদের ভাই হলেও,তার কিছুটা স্বতন্ত্র গুন অাছে বলে শুনেছি। তিনি ক্রমশ;ই সরকারবিরোধী হয়ে উঠছিলেন। এটা হিন্দুস্থান মনোনিত সরকারের জন্য শীড়:পীড়ার কারন হয়ে উঠছিলো… অার তাই তারা ফের শতরঞ্জ বসিয়ে কিস্তি মাত করতে চাইছে অটিস্টিক এরিক অার এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা কে দিয়ে। ইতিমধ্যে এরশাদের গুলশানের বাসভবনের দখল বিদিশা কে পাইয়ে দিয়েছে সরকার। এখন জাতীয় পার্টির ব্যাটন যাতে তার হাতে থাকে,সেজন্য সরকার, হিন্দুস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে মাঠে নেমেছে। কিন্ত,খেলোয়াড় নির্বাচনে তারা বড্ড ভুল করে ফেলেছে। অবশ্য তাদের হাতে অার অতিরিক্ত খেলোয়াড় নেই,জিয়াউদ্দীন বাবলুকে তারা ব্যবহার করেছে, অানিসুল ইসলাম মাহমুদকেও, থাকলো ফিরোজ রশীদ। এই সাবেক ছাত্রলীগার,সঙসদে বড় বড় বোলচাল দিলেও, সে তো এখন হাসিনার পুতুল। ছেলের বউ খুন হয়েছে,সে মামলা এখনো ঝুলছে.. অারো জমি জমা দখল নিয়ে তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ! তাহলে অার জাপার পরিচিত থাকলো কে!

নাই, ওই ভাবে কেউ,যাদের মোটা দাগে সবাই চিনবে..অার বাকী যারা অাছে, তারা কেউই এসব টোপ গিলবেনা। সেটা র’ ভালো করে জানে। অার এটাতো সত্য। হুমো এরশাদ তার শাসনামলে যা কিছু করেছেন,সবই প্রেসিডেন্ট জিয়া থেকে ধার করে। তার নিজস্ব কোনো ইডিউলজি,ফিলোসফি, প্রিন্সিপ্যাল কোনোদিন ছিলোনা। ছিলেন তিনি পাকিস্তান প্রত্যাগত সেনা অফিসার। মুক্তিযুদ্ধে যাবার সুযোগ থাকা সত্তেয়,যুদ্ধকালীন সময়ে ছুটিতে থাকার পরও,যুদ্ধে যাননি। ফিরে গিয়েছিলেন পাকিস্তান। হয়েছিলেন,পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে যারা বিদ্রোহ করেছেন,তাদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান।

জিয়াউর রহমান তাকে সেনাপ্রধান করেছিলো বলে সবাই,অামরা জিয়াকে গালমন্দ করি। অথচ বেশীরভাগই জানেনা,তাকে সেনাবাহিনীতে পুর্নবহাল করেছিলেন শেখ মুজিব। শুধু তাই নয়,ভুতাপেক্ষা মর্যাদা দিয়ে,অার শেখের কাছে নিয়ে গেছিলেন ছাত্রলীগ এবং অাওয়ামী লীগে পরবর্তিতে এরশাতের প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের মিজান চৌধুরী।

অার ক্ষমতার স্বাদ সারাজীবন পেয়ে অাসছে বলে,অাওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনো এরশাদকে বঞ্চিত করেননি। এরশাদের সময় প্রধনমন্ত্রী ছিলেন, অামাদের অত্যন্ত ঘনিষ্টজন ব্যারিষ্টার মওদুধ অাহমদ, তার বইতে লিখেছেন,বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে লংড্রাইভে নিয়ে এরশাদ কতটা বুঝিয়েছেন।

শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে তিনি রাষ্ট্রথর্ম ইসলাম করার ঘোষনা দিলেন। কিন্ত নিজে কখনো সেটা পালন করলেননা। প্রবল যৌনাচারে মত্ত ছিলেন তিনি তার সারাটা শাসনামলে.. তার কত উপপত্নির কথা অামরা শুনেছি। তখন অামরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। লেখালোখির সাথে জড়িত।

তার হাটকুড়ো ইমেজ থেকে কিভাবে তিনি উদ্ধার পেলেন,কত শত কাহিনী!

তার সেই প্লেয়ার জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ হচ্ছে,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অাবুবক্কর সিদ্দিকীর দ্বিতীয় কন্যা বিদিশা । অাবু বকর সিদ্দ্দিক কবিতা লিখতেন,কবি হিসেব বেশ নাম ডাক ছিলো.. কিন্ত নিজের মেয়েদের এমন বেপরোয়া অাচরন তার বরদাস্ত হয়নি,তিনি জগৎ ছেড়ে গেলেন।

এখন কথা হচ্ছে, বিদিশা  যদি এরশাদের সৎ স্ত্রী হন,তাহলে এরশাদ কেন,তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা করবে। তিনিও বা কেন শত্রুর সঙ্গে বসবাস বলে,নিজের স্বামীর ক্যারেক্টার এ্যাসোনিশেসন করে বই লিখবেন! প্রশ্ন অনেক,উত্তর নেই। উত্তর একটাই..হিন্দুস্থান বিরোধী সরকার যেন, বাংলাদেশে অার সরকার গঠন করতে না পারে.

শুধু এটুকু বলি.. ফের কখনো বাংলাদেশে গণতন্ত্র অাসবে.. সেদিন হিন্দুস্থানের সাথে গনতান্ত্রিকভাবেই বাংলাদেশের ন্যয্য পাওনা চাইবে সেই সরকার! বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four × four =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা