28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

সরকার ভূরাজনীতিতে ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে জড়িয়ে পড়ছে

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

সরকার কেন লক ডাউনের নামে এরকম ফাৎরামি করছে। আর পাব্লিকও আছে সেই মাত্রার ত্যাদোড়! সরকারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের কাজ, তারা ঠিকই করে যাচ্ছে। বাস চলছে,মার্কেট খোলা। অফিস আদালতও চলছে.. আবার কিছু দিন পর পর লকডাউন বাড়ানোর নামে তামাশা করছে।

শিমুলিয়া ঘাটে প্রথম কয়েকদিন ফেরি বন্ধ রাখা হলো। পাব্লিক পড়লো যারপরনাই ভোগান্তিতে। এরপর কথা বার্তা নেই, আবার চালু করে দিলো ফেরি। বাস চলবেনা তো চলবেনা। কিন্তু কি হলো? পরিবহন সেক্টরের মাফিয়া শাজাহান খানের হুমকিতে বাস চলাচলের অনুমোদন দেয়া হলো। এ যেন নদীর ঘাটে নারীদেন শৌচাগারের মত। জেলার মধ্যে বাস চলবে। পাব্লিক বলছে,ঠিক আছে তাই সই। আমরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে গন্তব্যে যাবো। দেখি ঠেকায় কে!

দেশের প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন, যে যেখানে আছেন,সেখানেই ঈদ করেন। কিন্তু তিনি এমন আহবান রাখার পরদিন থেকে ঢাকায় থাকা মানুষের গ্রামে যাওয়ার নেশা চড়ে গেল। যে যেভাবে পারছে ছুটছে, যে করেই হোক,যেভাবেই হোক গ্রামে যাওয়া চাই- চাই।

দেশের জনগনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভকে দাবানলে পরিনত করার জন্য দেশে তেমন কোনে রাজনৈতিক দল আপাতত নেই,সেটাই সরকারের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, ভূরাজনীতিতে যেভাবে সরকার একের পর এক দেশের নয় ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে কখন যে কি হয়, সেটা বলাটা মুশকিল।দক্ষিন এশিয়ার ন্যাটো বলে পরিচিত কোয়াডে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে চাপান উতোর শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সফরে এসে কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশকে হালকা পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেছে। কিন্ত তাতে কোনো কাজ হয়নি। ফলশ্রুতিতে নিজেদের সংস্কৃতি ভেঙ্গে চীন মুখ খুলতে শুরু করেছে। তাদের রাষ্ট্রদূত প্রকাশ্যে বলেছেন, কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে চীন বিরক্ত। এতে দ্বিপাক্ষিক সস্পর্কে প্রভাব পড়বে।

আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলতে শুনলাম,যারা গ্রামে গেছেন,তারা যেন ঘোরাঘুরি না করে বাড়িতেই থাকেন। আমার এটা শুনে হাসি পেলো,স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আহবান ছাড়া ভ্রুক্ষেপ করলোনা, তারা শুনবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা। বাহ! কি চমৎকার! য়েন অসহায়ের, আর্তনাদের মত শোনালো!

তবে, কেন,সরকারের এত অনুরোধ,আহবান জনগন আমলে নিচ্ছেনা। তাদের কি এই প্রাণঘাতি রোগ নিয়ে কোনো ডর ভয় নেই? আসলে ব্যাপারটা সেটা নয়। এই সরকারকে গত একযুগে তাদের নানামুখি স্ববিরোধী কার্যক্রমে জনগন বিরক্ত। এখন আর সরকারকে তারা বিশ্বাস করেনা। কারন তাঁরা মনেই করে না,এই সরকার তাদের। কারন সরকার গঠনে তাদের তো কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি। সুতরাং সে সরকারকে তাঁরা কেন আমলে নেবে। অন্যদিকে সরকার যতই তার স্বরে চিৎকার করুক,তারা জনগনের দ্বারা নির্বাচিত,জনগনের ভোটে, জনগনের কল্যানে কাজ করছে,তাতে জনগন কোন বিশ্বাস পায়না। বরং এরকম জলজ্যান্ত মিথ্যে কথা শুনলে তাদের পিত্ত্বি জ্বলে ওঠে। আর তাই সুযোগ পেলেই, তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়,যে যেভাবে পারে। অথবা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে..

চলমান লকডাউনে,লাখ লাখ মানুষের এই ভাবে ঘরে ফেরার হিড়িক,সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থারই এক ধরনের প্রতিফলন….কিন্তু বিনাভোটের সরকার কি সেটা বোঝে? বোঝার দরকার নেই। কারন,তাদের ফিবার ক্ষমতায় আসতে তো জনগনের দরকার পড়েনা। বেনজির আহমদের পুলিশ,জেনারেল আজিজ আহমেদের আর্মি,হুদার মতন একজন গাঁটকাটা প্রভুভক্ত নির্বাচন কমিশন,হেলাল উদ্দীনের মত কিছু আমলা। আর হিন্দুস্থানের মত একটি বিদেশী শক্তি।

দেশের জনগনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভকে দাবানলে পরিনত করার জন্য দেশে তেমন কোনে রাজনৈতিক দল আপাতত নেই,সেটাই সরকারের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, ভূরাজনীতিতে যেভাবে সরকার একের পর এক দেশের নয় ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে কখন যে কি হয়, সেটা বলাটা মুশকিল।দক্ষিন এশিয়ার ন্যাটো বলে পরিচিত কোয়াডে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে চাপান উতোর শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সফরে এসে কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশকে হালকা পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেছে। কিন্ত তাতে কোনো কাজ হয়নি। ফলশ্রুতিতে নিজেদের সংস্কৃতি ভেঙ্গে চীন মুখ খুলতে শুরু করেছে। তাদের রাষ্ট্রদূত প্রকাশ্যে বলেছেন,কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে চীন বিরক্ত। এতে দ্বিপাক্ষিক সস্পর্কে প্রভাব পড়বে।

এদিকে চীন থেকে এক প্রকার ভিক্ষা করে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা দেশে আনলো ঢাকা। অথচ বহু আগেই চীন টিকা দিতে চেয়েছিলো,তখন হিন্দুস্থান গোস্সা করে কি না সেই ভয়ে চুপ মেরেছিলো। কিন্তু যখন দাদারা নিজেরাই ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করতেসে,তখন কানে পানি এলো। তখন মনে পড়লো লুক ইষ্টের কথা। ততদিনে চীন মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তারপরও অনেক কাকুতি,মিনতি করায়,রাজী হলো দেশটি। প্রথমে বিনামুল্যে দিতে চাইলো দুলাখ,ঢাকা বললো,মাত্র দুলাখে কি হবে? আরো কিছু বাড়িয়ে দাও,পরে তিন লাখ দিতে রাজী হলো, কিন্ত বাংলাদেশ নাছোড় বান্দা। অবশেষে পাঁচলাখে রফা হলো। কিন্তু কন্ডিশন একটাই,নিজেদের গিয়ে আনতে হবে।

কখনো শুনেছেন,উপহার কেউ গিয়ে নিয়ে আসে? এতদিন জানতাম উপহার বাড়ি পৌছে দেয়। আর আমরা চীনা টিকা আনতে নিজেদের বিমানবাহিনীর বিমান পাঠিয়ে আনলাম। এটাকে কি আদৌ উপহার বলা যায়?এই যে বিমানবাহিনীর বিমান গিয়ে আনলো এতে আনা নেয়ার যে খরচ হলো.. তার হিসাব কোথায়?

সেই জন্য কুটনীতিতে একটা কথা বেশ চালু আছে,এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখতে নেই! কিন্তু যেখানে দেশ নয়,সরকারে থাকা না থাকা প্রশ্ন সেখানে, লুক ইষ্ট কুটনীতি,শাটল ডিপ্লোমেসি এসব কথার কোনো মাইনে রাখে! সেখানে সব কথার বড় কথা হয়ে দাঁড়ায়,হিন্দস্থানকে খুশ রাখা! তবে এভাবে গোজামিল কতদিন চলবে,সেটা ভবিতব্যই বলতে পারেন। আমি না।

লেখকঃ বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eight + 15 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা