30 C
Dhaka
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

প্রসঙ্গ: মুনিয়া আত্মহত্যায় আনভীরের দায়মুক্তি

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীরকে মুনিয়া আত্মহত্যায় ইন্ধন যোগানোর অভিযোগের মামলা থেকে রেহায়াই দিয়ে পুলিশ চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ঈদের অাগেই। কিন্ত একটা বিষয় অামাদের মেইন স্ট্রিমের গণমাধ্যম এড়িয়ে গেছে সযতনে। সেটা হচ্ছে, মুনিয়ার বড় বোন যিনি মুনিয়া অাত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার বাদী ছিলেন,সেই নুসরাত জাহান তানিয়াকে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার দিনই চাকরীচ্যুত করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক কতৃপক্ষ যে অভিযোগ এনেছেন,সেটা হচ্ছে জাষ্ট অানুষ্ঠানিকতা। মোদ্যা অভিযোগ হচ্ছে, এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে নানাভাবে চাপ,হুমকী দেয়ার পরও তিনি সেটা প্রত্যাহারে রাজী ছিলেননা। শেষতক, ব্যাংক কতৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।এদেশে টাকা থাকলে সব হয়! যেমন, ক্রাইম রিপোর্টারদের সংগঠন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে তার অার্শিবাদধন্য হয়, যে কারনে এই অতিমারীর সময় একজন নারীকে এভাবে চাকরীচুত করার খবরটা বেমালুম চেপে গেলো,তথাকথিত স্বাধীন প্রথম সারীর গণমাধ্যম। ঠিক তেমনি রুগ্ন ব্যাংক পদ্মা। তারাও দেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপের বদান্যতাবিমুখ হতে চায়নি বলে,সামান্য একজন মার্কেটিং অফিসার যার বেতন সাকুল্যে বিশ হাজার টাকা। কৃচ্ছতা সাধনের নামে তাকে চাকরিচূত করে.. ওই শিল্পগোষ্টির প্রতি অাস্থা দেখিয়েছে..অাজ ভারতের ভার্সেটাইল অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মদিন। তার একটি ছবি অামি বেশ কয়েকবার দেখেছি। ছবিটির নাম থানা থেকে অাসছি। ছবিটির কাহিনী মুনিয়ার মত এক তরুনীর কাহিনী,যে কিনা কার্বোলিক এসিড খেয়ে অাত্মহত্যা করেছিলো.. অার সে অাত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিলো বসুন্ধরা গ্রুপের মতন একটি শিল্পগ্রুপের প্রায় সবাই… উত্তম সেই মেয়ের একটি ডায়েরি পেয়ে তদন্ত করতে এসেছিলেন,ওই শিল্পপতির বাড়িতে। ডায়েরিতে তরুনীটি যা লিখেছিলেন,সেটার বর্ননা ধরে ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন,পরিবারের সবাইকে। সিনেমাটার কাহিনী না হয় থাক।

মুনিয়া যে ঘরে থাকতেন,শুনেছি গুলশান থানা পুলিশ সেখান থেকেও একটা ডায়েরি উদ্ধার করেছিলো.. তাতে কি লিখেছিলেন,মুনিয়া অামরা সেটা জানিনা। অানভির যদি নির্দোষই হবেন,তিনি যদি এ ব্যাপারে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে না জানবেন,তবে কেন সেদিন মুনিয়ার বোনকে মামলা প্রত্যাহারের অভিযোগে চাকরীচুত করতে হলো… কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা,কলামনিষ্ট শশি থারুর সুর্দশনা পত্নি সুনন্দা পুস্কর। অাত্মহত্যা করেছিলেন। তার প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশি জেরা এমনকি কয়েকরাত পুলিশি হেফাজতেও থাকতে হয়েছিলো শশি থারুরকে। শশী থারুর ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা যেমন নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান প্রভৃতিতে কলামিস্ট এবং লেখক হিসাবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি নিউজউইক ইন্টারন্যাশনালে কনট্রিবিউটিং এডিটর এবং কলামিস্ট হিসাবে কাজ করে থাকেন। ২০০৬ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব পদের জন্য থারুরের নাম প্রস্তাব করে ভারত। তবে মহাসচিব নির্বাচিত হন বান কি মুন এবং শশী থারুর দ্বিতীয় হন সে নির্বাচনে।সুতারং এ হেন ব্যক্তিকেও ভারতীয় পুলিশ ছেড়ে কথা বলেনি।

অার বাংলাদেশে! এদেশে ব্যাঙের ছাতার মতন বহু মানবাধিকার সংগঠন অাছে। তারা কোথায়। এদেশে মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী পরিচয় হচ্ছে একধরনের স্টাইল। কারন,এই পরিচিতি তাদের খ্যাতিবৃত্তিকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়। অাজ যেমন পাবর্ত্য এলাকায় একজন মানবাধিকার কর্মীকে অাটক করা হয়েছে।যিনি গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন।কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে সুলতানা কামাল। কতখানি মানবহিতৈষি অামরা সবাই জানি। তিনিও কিন্তু অাইন শালিস কেন্দ্রের পদ হারিয়েছিলেন বাসার মধ্যে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে।সুতরাং সকলি গরল ভেল!

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

four × 4 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা