28 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১

শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মিছিল ও সমাবেশ

যা পড়তে পারেন

:: সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক ::

বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে চার ছাত্র সংগঠনের মিছিল ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, “পুলিশকে নির্বিচারে হত্যার লাইসেন্স দিয়েছে খুনি হাসিনা সরকার!”

“ন্যায্য অধিকারের দাবিতে রাজপথে নামলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার লাইসেন্স পুলিশকে দিয়েছে খুনী হাসিনার সরকার!”

আজ বেলা সাড়ে এগারোটায় চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ক্রিয়াশীল চার ছাত্র সংগঠনের যৌথ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই কথা বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফরহাদ জামান জনি, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এ্যানি চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের চট্টগ্রাম নগর সহসভাপতি রিপা মজুমদার ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী আরমান। সমাবেশ পরিচালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজেশ্বর দাশ গুপ্ত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “২০১৬ সালে বাঁশখালীর স্থানীয় জনগনের বসত-ভিটা উচ্ছেদ করে এস. আলম ও কয়েকটি চীনা কোম্পানির পরিবেশ দূষণকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনে পুলিশ গুলি করে পাঁচজনকে হত্যা করেছিলো। পাঁচ বছর পর গতকাল সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সারাদেশের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে হতবাক করেছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ, পরিষ্কার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থা ও ইফতারের জন্য সময় বরাদ্দের মত দশ দফা ন্যায্য দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রশাসন পুলিশ ডেকে এনে নিরস্ত্র শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে। এতে সরকারি হিসাব মতেই মারা গেছে পাঁচজন শ্রমিক; প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশী। এছাড়া অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও এখনো স্বাধীন দেশে নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। গদি রক্ষার জন্য দেশী ও সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির দাস ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার শ্রমিকদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালিয়ে শ্রমিক হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছেনা।

অন্যদিকে যেকোনো ধরণের বিরোধী মতকে দমানোর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করে বিনাপরোয়ানায় তুলে নিয়ে দিনের পর দিন আটকে রাখার বৈধতা তৈরি করেছে। এই আইনে আটক লেখক মুশতাককে নির্যাতন করে জেল হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন আজ ৫২ দিন জেলবন্দী। শ্রমিক-জনতার রক্তের উপর টিকে থাকা এই সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই।” সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ তাদের সকল পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ এবং নিহত শ্রমিকদের সারা জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এবং দোষী পুলিশসহ এস আলম গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × four =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা