30 C
Dhaka
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

সম্পাদক পরিষদ থেকে গণমাধ্যমের কি লাভ হচ্ছে?

যা পড়তে পারেন

:: মুজতবা খন্দকার ::

ডেইলি স্টারকে অামি দিল্লি ষ্টার বলি। সেটা অামার নিতান্তই ব্যক্তিগত মত। কারন পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতিমালা অামার পছন্দ নয়। তবু পত্রিকাটিতে অামি প্রতিদিন একবার হলেও চোখ বোলাবার চেষ্টা করি। কারন, অামি ব্যক্তিগতভাবে যা ভাবিনা কেন, এ কথাতো ঠিক, ইংরেজি দৈনিক হিসেবে সমাজে,রাষ্ট্রে এমন কি প্রেশার গ্রুপ,সিভিল সোসাইটি,ডিপ্লোমেটিক এরিয়ায় ডেইলি স্টারের একটি বড় ধরনের প্রভাব অাছে। সংগত কারনেই এটা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এস এম অালীর পর পত্রিকাটি এগিয়ে নেবার পেছনে মাহফুজ অানামেরও অনেক অবদান অাছে। মাহফুজ অানামকেও অামার ব্যক্তিগতভাবে অতটা পছন্দের নয়। তবে তার জানাশুনো,জ্ঞান,প্রজ্ঞাকে অামি শ্রদ্ধা করি। তিনি অনেক সময় অনেক সত্যকে অস্বীকার করেন। তিনি তার পলিসি দিয়ে তার পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এই স্বাধীনতা তার অাছে, অামি সেটা সমর্থনও করি। তবে, সেটা জেনেও তার পত্রিকা অামি পড়ি। তিনি নিজের মতামতকে পাঠকের ওপর চাপিয়ে দেবা্র সুন্দর কৌশল জানেন। অনেক পাঠকই তার সে কৌশলে কনভিন্স হয়। সেটাও এক ধরনের অার্ট। অাবুল মনসুর অাহমদের দুই পুত্রই মেধাবী। বড় জন মাহবুব অানাম,ছোট মাহফুজ অানাম। মাহফুজ অানাম ছাত্রজীবন থেকে মেধাবী,চৌকষ বিতার্কিক। তার লেখায় সৃজনশীলতার ছাপ পাওয়া যায়.. তিনি ডেইলি ষ্টারকে একটি লিডিং দৈনিকে পরিনত করতে যে ভাবে,যা করা দরকার,সেটা করেছেন।

অামার অাপনার পছন্দ না হলেও অামরা সেটাকে খারিজ করে দিতে পারিনা। অামরা স্বীকার করি অার না করি,ডেইলি স্টার দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী দৈনিকগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। অবশ্যই এর কৃতিত্ব মাহফুজ অানামের।এটা বলতে কারো দ্বিধা থাকার কথা নয়। ডেইলি ষ্টারের প্রভাব এবং পাঠকপ্রিয়তা খর্ব করতে অনেক পত্রিকাই তো গত ত্রিশ বছরে এসেছে, অামার মনে হয়না,তারা কেউ সফল হয়েছে…সস্প্রতি এডিটর কাউন্সিলের সম্পাদকের পদ থেকে নঈম নিজাম ইস্তফা দেবার পর.. বসুন্ধরা গ্রুপের নিয়ন্ত্রনাধিন ইষ্টওয়েষ্ট মিডিয়া গ্রুপের পত্রিকা ও অনলাইনে মাহফুজ অানামের বিরুদ্ধে ব্যক্তি অনৈতিকতার অভিযোগ এবং একক সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালনা এবং সংগঠনকে শুধুমাত্র ডেইলি ষ্টার ও প্রথম অালোর স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে..তিনটি অভিযোগই গুরুতর। কিন্ত সেগুলোর কোনটাই খোলাসা করা হয়নি। এর জবাবে মাহফুজ অানাম দাবি করেছেন,সম্পাদকের সঙ্গে কখনো তার মতানৈক্য হয়নি, এবং সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালিত হয়েছে..সম্পাদক পরিষদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে, সিদ্ধান্ত হয়েছে,নঈম নিজামকে তার অানিতো অভিযোগ কাউন্সিলের পরববর্তী সভায় স্ব শরীরে এসে উপস্থিত হয়ে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অামি অাশা করছি বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্বনাম ধন্য সম্পাদক সেটা করবেন।বিষয় গুলো যেহেতু গণমাধ্যমে চলে এসেছে,তাই অামরাও পাঠক হিসেবে দেশের গণমাধ্যমের শীর্ষ সংগঠন সম্পাদক পরিষদের এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ব্যাপক কৌতুহল ও অাগ্রহ নিয়ে বসে অাছি।

সত্যিই যদি মাহফুজ অানাম সম্পাদক পরিষদকে সভাপতি হিসেবে ডেইলি স্টার ও প্রথম অালোর স্বার্থে ব্যবহার করে থাকেন অবশ্যই তা্ নিন্দা জানাবে। অার পদত্যাগি সম্পাদক অারো অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো সংবাদপত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে সম্পাদক পরিষদ অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার অাগে কুৎসা করেছে,বিবৃতি দিয়েছে,সেটাও পাঠক বিবেচনা করবে। কে কোন যুক্তিতে কি করলো বা কি করছে…পাঠক হিসেবে অামি যতদুর জানি, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি অানভিরের বিরুদ্ধে এক তরুনী হত্যার প্ররোচনা মামলা হবার পর, সেটা নিয়ে ডেইলি স্টার,প্রথম অালো রিপোর্ট করেছে। প্রথম রিপোর্টে অানভিরের নাম ছিলোনা, বলা হয়েছিলো একজন শিল্পপতির কথা। নাম প্রকাশ না করায়,পাঠকদের মধ্য তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিলো।এরপর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের চুড়ান্ত রিপোর্ট, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবার পর, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একটি বিবৃতি দেন,সেটা স্টার ও প্রথম অালোতে ছাপা হয়। বিবৃতি দিলে গণমাধ্যম সেটা ছাপতেই পারে,তার দায়দায়িত্ব কখনো গণমাধ্যমের হতে পারেনা। এর বাইরে এই দুটি সংবাদপত্র কোন কাগজের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা করেছে অামার জানা নেই। অার তাছাড়া অানভির কিন্ত বসূন্ধরা গ্রুপের এমডি। তিনি কোনো পত্রিকার মালিক বলে কোনো গণমাধ্যমের প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশক হিসেবে তার নাম অামরা দেখিনি। সাধারনত প্রকাশকই মালিক হন।

তবে স্টার ও প্রথম অালো বিদ্ধেষপ্রসূত যদি কোনো মালিকের বিরুদ্ধে কোনো খবর প্রকাশ করে,তবে অবশ্যই সেটা নিন্দনিয়.. তবে এমনটা এই দুটি দৈনিক সোজাসাপ্টা করে বলে অামার ধারনা নেই। এরা কারো বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক কিছু করলেও সেটাও একটা ফরমেটে করে থাকে,সেটাও তাদের একটা অার্ট অামাদের মত অাম জনতার পক্ষে সেটা ধরতে পারাটাটা অত সহজ নয়।তবে হ্যা। নঈম নিজাম,অভিযোগ করেছেন,পেশাগত উন্নয়নে পরিষদ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেনা। এ বিষয়ে অামি অনেকটা একমত। এই যে সরকার নিবর্তনমূলক অাইসিটি অাইন করলো,যেটা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বড় বাঁধা। সেটার জন্য এই সম্পাদক পরিষদ কি ভুমিকা রেখেছে?বড় জোর একটা দুটি বিবৃতি দেয়া ছাড়া! এই যে কালাকানুন করলো সরকা্র,তার বিরুদ্ধে তাদের শক্ত অবস্থান কোথায়? এরই মধ্যে বহু গণমাধ্যমকর্মী এই মামলায় জেলে খেটেছেন,কেউবা জেলে। উনারা তাদের জন্য কি করেছেন? হয়তো কালে ভদ্রে একটা মানবন্ধন করেছেন। কিন্তু এত বড় কালো অাইনের বিরুদ্ধে এটাই কি সব? কোনোদিন এক মিনিটের জন্য গণমাধ্যমে কর্মবিরতির কর্মসুচী নিয়েছেন? নেননি। প্রতিবাদে সংবাতপত্রে প্রথম পৃষ্টার অাধা ইঞ্চি জায়গা প্রতিবাদে খালি রেখেছেন,রাখেননি। এমন একটি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করারর চেষ্টা করেছেন? করেননি..তাহলে এই সম্পাদক পরিষদ থেকে অামাদের গণমাধ্যমের কি লাভ হচ্ছে? অাগে ছিলো সংবাদপত্র পরিষদ সংক্ষেপে বিএসপি। সেখানে সব সংবাদপত্রের মালিকদের অংশগ্রহন ছিলো। মাহফুজ অানামরা এলিট ক্লাব করলেন.. তাতে গণমাধ্যমের কি এসে গেলো! সভাপতি ও সস্পাদক পরস্পর দুই শিল্পগোষ্টির প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে অভিযোগ উঠলো.. বাহ! কি চমৎকার! শরমে মরমে মরে যেতে ইচ্ছে করে.. এই হচ্ছে, অামাদের সম্পাদকের স্টার্ন্ডার্ড!অারো একটা অাছে, এরকম গণমাধ্যমের কথিত ভ্যান গার্ড।নাম হচ্ছে, এডিটর গিল্ড। এর সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদি। এই গিল্ডের সদস্য হচ্ছেন,অনলাইন,বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমের রথি মহারথিরা!তারা গণমাধ্যমের জন্য কি করেছেন,বা করছেন কেউ জানেনা।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে কোনো নিয়ম নেই,যখন ইচ্ছে,চাকরী যাচ্ছে.. মালিক সংবাদকর্মীদের যে দাম ধরছেন,সেটাই নিতে কর্মীদের বাধ্য হতে হচ্ছে,তা নিয়ে এই কথিত গিল্ডের ভূমিকা কি?বেসরকারী টেলিভিশন হতে চললো দুই যুগেরও কাছাকাছি। এখনো এই সেক্টরে কেন কোনো রেগুলরাটিরি কমিটি হলোনা। সংবাদপত্রে যদিও একটা সরকারী নীতিমালা অাছে। কিন্তুু ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে তার কিছু নেই। অথচ সংবাদপত্রের বহু রথি মহারথি এখন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বস! এমনকি ইউনিয়নের জ্বালাময়ি বক্তাও। পক্রিকায় নীতি নৈতিকতার কলাম লিখেন। অথচ তিনি কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদকর্মীদের স্বার্থ দেখেছেন এমন নজির নেই! মুড়ি মুড়কির মত ইলেকট্রনিক মিডিয়া জন্মাচ্ছে অার বেকার হচ্ছেন ততধিক। নেই কোনো নীতিমালা। সরকার কেন দিচ্ছে.. সেটাই তো বলবেন.. অগণতান্ত্রিক সরকার কখনো কি চায়. গণমাধ্যম সুস্থিরভাবে চলুক.. কিন্ত,এত এত সংবাদকর্মীদের সংগঠন তারাই বা কি করে…! অাসলে সকলি গরলভেল!!

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

19 + 10 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা