27 C
Dhaka
সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

সি এঞ্জেল, ম্যরিএন এবং কুফা সরকারের তকমা

যা পড়তে পারেন

:: ওয়াসিম ইফতেখার ::

আমেরিকার যুদ্ধবাজ হিসাবে খ্যাত হলেও তাদের অজস্র প্রশংসনীয় ও মানবিক কাজ আছে তাঁদের। যার মাঝে একটি হচ্ছে অপারেশন সি এঞ্জেল। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের উপর দিয়ে বয়ে যায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়। এতে প্রায় ৩ লাখের বেশী মানুষ নিহত হয়েছিল। বিশ্বের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় কয়টির অন্যতম ‘মারিয়ান’ নামের ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার গতির দানবের আঘাতে লণ্ডভণ্ড- হয়েছিল চট্টগ্রাম ও এ বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চল। যারা সে রাত টি প্রত্যক্ষ করেছেন, এটির কথা কারো ভোলার নয়। তৎকালীন সময়ে এত উদ্ধার কাজ ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহে বাংলাদেশের সামর্থ্য ছিল না। দেখে তখন মাত্র গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকার বাধ্য হয়ে বিদেশী সাহায্য চায়। সবার আগে এগিয়ে আসে আমেরিকা। তারা এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন সি এঞ্জেল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ঐ ঘূর্ণিঝড়ের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার এবং সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠেছিল। এই ঘূর্ণিঝড় অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার বিএনপি সরকার ‘ত্রান মন্ত্রণালয়’ এর খোলনলচে পালটে “দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়” গঠন করেন। ১৯৯৩ এ UNDP, UNICEF, DFID কে একত্রিত করে ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপন ব্যুরো’ গঠন করে বিএনপি সরকার। এরপর Support to comprehensive disaster Management প্রকল্প’র আওতায় এবং দ্বিতীয় ধাপে The Rights Based Planning and Monitoring: Disaster preparedness প্রকল্প’র আওতায় ঝুঁকি পূর্ণ এলাকাতে প্রায় ৬০০ সেমিনার ওয়ার্কশপ করে ৪০,০০০ ব্যক্তিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে দীর্ঘ-মেয়াদী ডিজাষ্টার ম্যনেজমেন্টে দক্ষ হয়ে ওঠে বাংলাদেশিরা।

ঘূর্ণিঝড় ৯১ সময়ে বেগম জিয়ার দু মাস অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু পরের টুকু জাষ্ট ইতিহাস। ১৯৯১ সাইক্লোনের সাথে সাথেই বেগম জিয়া উপদ্রুত এলাকাতে ছুটে যান। তিনি রিয়েলাইজ করেন স্বৈরাচারের ফেলে যাওয়া কাঠামো দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের রক্ষা করা সম্ভব না। উদ্ধার কাজে সাথে সাথে দেশের মিলিটারি নিয়োগ দেন ও বিশ্ব সমর্থন চান বেগম জিয়া। ঘূর্নিঝড়ের প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউজ সহানুভূতি জানিয়ে সব ধরণের সাহায্য‘র আশ্বাস দিলে তা লুফে নেন বেগম জিয়া। নিজেরাই যথেষ্ট পারদর্শী টাইপ বেমক্কা কথা তিনি বলতে অভ্যস্ত ছিলেন না।

কুয়েত ফেরত আমেরিকান উদ্ধার দলকে ১৭ মে, ১৯৯১ এ ‘হোভার-ক্রাফট’ নামক উভচর যান সহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় উদ্ধার কাজ জোরদার করতে। আমেরিকানদের সেই উদ্ধার অভিজানের নাম ছিল অপারেশন সি-এঞ্জেল। অন্যদিকে কুয়েত ফেরত ব্রিটিশ আর্মিও এই সহায়তা মিশনে যুক্ত হয়েছিল। বৃটিশরা এই অপারেসনের নাম দিয়েছিল ‘মান্নার’।

একদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব অন্যদিকে সাবেক স্বৈরাচারের ফেলে যাওয়া চূড়ান্ত অ-ব্যবস্থাপনা একেবারে এলোমেলো করে দিয়েছিল দেশকে। দেশের অমন দূর্দিনে একজন বিশেষ ব্যক্তি তাঁর বক্তব্যতে বলেছিলেনঃ

‘এই সরকার কুফা সরকার, তাই এমন তাণ্ডব এসেছে

এবং সংসদে দাঁড়িয়ে অনরেকর্ড অনেকে বলেন যে বিদেশী উদ্ধারকর্মীরা আর কোন দিন ফিরে যাবেনা।

চূড়ান্ত অ-ব্যবস্থাপনার একটা উদাহরণ হতে পারে সেই রাতে দ্বিখণ্ডিত হওয়া কর্ণফুলী সেতু। অ-ব্যবস্থাপনায় ডুবে থাকা নৌবাহিনীর হেভি ডিউটি একটি ক্রেন ঝড়ের টানে ছুটে এসে ধাক্কা দিলে মূহুর্তে খণ্ডিত হয়ে যায় ব্রিজটি। ছবিটি বাস্তবতার কাছাকাছি অনুভুতি দিতে পারে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ঐ ঘূর্ণিঝড়ের গতি ছিল ২৫০ কিলোমিটার পার আওয়ার। এবং সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠেছিল।এই ঘূর্ণিঝড় অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার বিএনপি সরকার ‘ত্রান মন্ত্রণালয়’ এর খোলনলচে পালটে “দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়” গঠন করেন। ১৯৯৩ এ UNDP, UNICEF, DFID কে একত্রিত করে ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপন ব্যুরো’ গঠন করে বিএনপি সরকার। এরপর Support to comprehensive disaster Management প্রকল্প’র আওতায় এবং দ্বিতীয় ধাপে The Rights Based Planning and Monitoring: Disaster prerparedness প্রকল্প’র আওতায় ঝুঁকি পূর্ণ এলাকাতে প্রায় ৬০০ সেমিনার ওয়ার্কশপ করে ৪০,০০০ ব্যক্তিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে দীর্ঘ-মেয়াদী ডিজাষ্টার ম্যনেজমেন্টে দক্ষ হয়ে ওঠে বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশ সরকার বাধ্য হয়ে বিদেশী সাহায্য চায়। সবার আগে এগিয়ে আসে আমেরিকা। তারা এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন সি এঞ্জেল।

এই ব্যুরো ৭৪৪ ইউনিয়ন, ২৪ পৌরসভা, ৭৪ উপজেলা ও ২৪ জেলার ধরণ ও আক্রান্ত হবার সম্ভবনার ওপর পৃথক ভাবে Local Disaster Plan প্রনোয়ন করে। যাকে আধুনিক পরিভাষাতে ডিজাষ্টার ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

PMO ও Education Ministry এর হেল্প ও ডিরেকসনে উক্ত ব্যুরো ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত টেক্সট বুকে দুর্যোগ প্রশমন বিষয়ক প্রবন্ধ রচনায় জাতীয় কারিকুলাম ও টেক্সট বুক অথোরিটি কে ফলো আপ করে। একই সাথে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে।

এবং উল্লেখ্য একাজে অন্তত অভিজ্ঞতা অর্জনের নিমিত্তে কোন বিদেশ ভ্রমণ ছিল না। বেগম জিয়া বলে দিয়েছিলেনঃ

বাংলাদেশের বাস্তবতায় ডিজাষ্টার বুঝে আমাদের ডিজাইন করতে হবে। বিদেশী অর্থ সাহায্য নিলেও ডিজাষ্টার ম্যনেজমেন্টে ইম্পোর্টেড ফর্মুলা নেয়া যাবে না। কারণ তারা আমাদের রিয়েলিটি বুঝবেনা।

আজকের বাংলাদেশের উপকূলে প্রচুর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র দেখা যায়, যার অধিকাংশ সে ঘূর্ণিঝড়ের পর জাপানিজ ও সৌদি আর কুয়েত সরকারের সাপোর্টে প্রতিষ্ঠিত হয়।ঘূর্নিঝড় সতর্কতা ব্যাবস্থারও উন্নয়ন শুরু হয় তখন থেকে।

বিএনপি সরকারের ডিজাষ্টার ম্যনেজমেন্টে যা করে দিয়ে গিয়েছেন, জাষ্ট অসামান্য।

সামরিক বাহিনীর প্রচুর যুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ বিমান ও যুদ্ধ জাহাজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয় যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্তের অভবে। তবে ঐ দিন সাগরের ভয়াবহতা সংক্রান্ত একটা নোটে চোখ বুলানো যেতে পারে। নোটটির লেখক সাবেক নৌবাহিনী অফিসার। আর নিজ ওয়ালে লিখেছেন নিজ অভিজ্ঞতা।

পাওয়ারে আসার অল্প কদিনের ভেতর এই প্রবল অভিজ্ঞতা পরবর্তিতে নেয়া অজস্র গূরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে নেয়ামক হয়ে কাজ করেছিল।

বৈশ্বিক মৃত্যু মিছিলে সে দিনের মৃত আত্মাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

- Advertisement -

আরও লেখা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × 5 =

- Advertisement -

সাম্প্রতিক লেখা